দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালবেলার মেট্রো, জিমের ট্রেডমিল, কিংবা রাতের নির্জন ঘর—এখন প্রায় সবার সঙ্গেই থাকে এক জোড়া ব্লুটুথ হেডফোন (Bluetooth Headphone)। গান, ফোনকল, পডকাস্ট, সবকিছুই যেন কানের ভেতরেই বন্দি। ব্যবহার যত সহজ হয়েছে, ততই বেড়েছে এক অদ্ভুত ভয়, এই ডিভাইসগুলো কি শরীরের ক্ষতি করছে? ক্যানসারের মতো বড় বিপদের ঝুঁকি (Cancer Risk) কি লুকিয়ে আছে এর ভেতরে?
বিজ্ঞান বলছে, গল্পটা ততটা ভয়ের নয়।
ব্লুটুথের অদৃশ্য সিগন্যাল—আসলে কী?
ব্লুটুথ প্রযুক্তি কাজ করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা RF সিগন্যালের মাধ্যমে, যা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশনেরই (Electromagnetic Radiation) একটি অংশ। এই ধরনের বিকিরণ আমাদের চারপাশে প্রতিদিনই থাকে। মোবাইল ফোন, টিভি সিগন্যাল, ওয়াই-ফাই— সবকিছুই এর ওপর নির্ভরশীল।
বিজ্ঞানীরা বিকিরণকে মূলত দু’ভাগে ভাগ করেন। একটি হল আয়নাইজিং বিকিরণ, যেমন এক্স-রে বা সিটি স্ক্যান। এগুলো কোষের DNA-তে ক্ষতি করতে পারে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যটি হল নন-আয়নাইজিং বিকিরণ, যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম শক্তিশালী। ব্লুটুথ হেডফোন থেকে যে সিগন্যাল বেরোয়, তা এই দ্বিতীয় শ্রেণির, ফলে এটি মানবদেহের কোষে ক্ষতি করার মতো শক্তিশালী নয়।
তাহলে ক্যানসারের ভয় কতটা সত্যি?
বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, ব্লুটুথ হেডফোন ক্যানসার ঘটায়— এমন কোনও যথাযথ প্রমাণ নেই। বরং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল ফোন কানে ধরে কথা বললে যে পরিমাণ সিগন্যালের এক্সপোজার হয়, ব্লুটুথ ডিভাইসে তা অনেক কম। অর্থাৎ, তুলনামূলকভাবে এগুলো আরও নিরাপদ।
যেখানে ভয় নেই, সেখানে আমরা ভয় পাই। আর যেখানে সত্যিই সাবধান হওয়া দরকার, সেটা এড়িয়ে যাই। হেডফোনের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ক্যানসার নয়, বরং শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া। উচ্চ ভলিউমে দীর্ঘ সময় ধরে গান বা অডিও শুনলে কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।
একটু সচেতন হলেই অনেকটা সুরক্ষা
খুব কঠিন কিছু নয়। কিছু সহজ অভ্যাসই আপনাকে নিরাপদ রাখতে পারে। ৬০/৬০ নিয়ম মেনে চলা সবচেয়ে কার্যকর। সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি নয় এবং একটানা ৬০ মিনিটের বেশি শোনা নয়। এর পাশাপাশি মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়া, ভলিউম বেশি হয়ে গেলে তা কমানো, আর সম্ভব হলে ইন-ইয়ারের বদলে ওভার-ইয়ার হেডফোন ব্যবহার করা— এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
প্রযুক্তি সবসময় ভয় পাওয়ার জিনিস নয়, বরং তাকে কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটাই আসল। ব্লুটুথ হেডফোন আমাদের জীবনের ছন্দ সহজ করেছে। বিজ্ঞান বলছে, এটি ক্যানসারের কারণ নয়। তবে নিজের কানের যত্ন নেওয়া, শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, এই দায়িত্বটা কিন্তু আমাদেরই। কারণ, শোনা শুধু অভ্যাস নয়, এটা শরীরের ভিতরের সঙ্গে বাইরের কানেকশন।
দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য নানা মিডিয়ায় প্রকাশিত বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে লেখা, যা আলাদা করে দ্য ওয়ালের তরফে যাচাই করা হয়নি।
Note: This report is intended for informational purposes only and is not a substitute for medical advice. It is based on statements published across social media and various other media platforms, which have not been independently verified by The Wall.