
শেষ আপডেট: 23 January 2024 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলবায়ু বদলাচ্ছে। বরফ গলছে মেরুপ্রদেশে। চির ধরছে হিমবাহে। গলে যাওয়া বরফের ভেতর থেকে জেগে উঠছে বুড়ো জম্বি। বয়স তার ৪৮ হাজার ৫০০ বছর। উত্তর মেরুর বিভিন্ন জায়গায় বরফে চাপা পড়েছিল মৃত্যুদূত। এখন তার জাগার সময় এসেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন সুমেরুর হিমবাহ যত বেশি গলবে ততই দ্রুত খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে জম্বি ভাইরাস। এই ভাইরাস একবার জাগলে আরও ভয়ঙ্কর অতি মহামারীর মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বকে।
বরফে জমাট হ্রদে এই ভাইরাসের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে, বিশ্বে যতরকম ভাইরাস আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এই প্যানডোরাভাইরাস। ৪৮ হাজার ৫০০ বছর ধরে বরফের নীচে ঘুমিয়ে আছে সেই ভাইরাস। বরফ গলতে শুরু করলেই জেগে উঠবে এই ভাইরাস।
সারা পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপমাত্রা। এ তথ্য আর নতুন নয় গত কয়েক বছর ধরে। কিন্তু বিপদের সীমা একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়েছে অন্য এক তথ্য। জানা গেছে, কয়েক হাজার বছরের হিমশীতল পার্মাফ্রস্ট গলে যাচ্ছে। পার্মাফ্রস্ট হল পৃথিবীর উপরের বরফের স্তরের তলায় থাকা পাকাপাকি ভাবে জমাট বাঁধা মাটি। এর ফলে সেই বরফ-মাটির নীচে এত বছরের সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস মুক্ত হয়ে সজীব হয়ে উঠছে। আর এটাই নাকি বিশ্বজোড়া নানা রকম অসুখের একটা সম্ভাব্য কারণ! বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর বেশিরভাগ পার্মাফ্রস্ট সঞ্চিত হয়ে আছে উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলে। এই অঞ্চলে যখন কোনও প্রাণী মারা যায়, তখন তা সাধারণ প্রাণীর মতো মাটিতে মিশে যায় না, তারা বরফ গলে নীচে প্রবেশ করে, পার্মাফ্রস্টের বরফ-মাটির মধ্যে থেকে যায় জমাট বেঁধে। ফলে তাদের শরীরে জমা থাকা জীবাণুও সেই সঙ্গেই মিশে যায় পার্মাফ্রস্টে। এখন দ্রুত গতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাজার বছর ধরে জমাট বেঁধে থাকা সেই বরফ-মাটি গলতে শুরু করেছে। ফলে তার মধ্যে থাকা প্রাণীগুলির দেহের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াও জেগে উঠতে শুরু করেছে।
৩০ হাজার বছরের পুরনো পার্মাফ্রস্ট থেকে পিথোভাইরাস সাইবেরিকামের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভাইরাস অতি সংক্রামক। হাজার হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পার্মাফ্রস্টে এরা ফসিল হয়ে ছিল। এখন হিমবাহ গলতে শুরু করায় এই ভাইরাস আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। তিব্বতীয় মালভূমিতে দুটি হিমবাহের মধ্যে ১৫ হাজার বছরের ভাইরাসের হদিশ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বরফের নীচে ৩৩ রকম ভাইরাসের জিনোমের খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ২৮টি একেবারেই নতুন ভাইরাস বিজ্ঞানীদের জানাশোনার বাইরে। গবেষকরা বলছেন, বরফের মধ্যে কম তাপমাত্রায় থাকায় এইসব ভাইরাসের জিন এখনও সক্রিয় রয়েছে।
এই সমস্ত জীবাণুর উৎস যে শুধুই বহু বছর আগে মারা গিয়ে বরফে চাপা পড়া কোনও প্রাণী, তা নয়। মেরু এলাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা রকম জীবাণুঘটিত রোগে আক্রান্ত মানুষকেও চাপা দেওয়া হয়েছে বরফে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাগৈতিহাসিক এই ভাইরাসরা মানব সভ্যতার জন্য ভয়ানক ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পার্মাফ্রস্ট বরফ আর মাটি মেশা এমন একটা স্তর, যাতে বিভিন্ন ঘাতক জীবাণু দীর্ঘ সময় ধরে অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারে। হয়তো এমন কোনও জীবাণু এখনও সুপ্ত হয়ে আছে যার দেখা আগে কখনও মেলেনি। হিমবাহ গলে গিয়ে তেমন জীবাণুও মৃত্যুদূত হয়ে বেরিয়ে আসতে পারে বরফের ভেতর থেকে।