
শেষ আপডেট: 24 April 2024 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স 'মাত্র' ১৩ বছর। কিন্তু লাভের নিরিখে ইতিমধ্যেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছে স্টার্ট আপ সংস্থা 'জিরোধা'। দুই ভাই নিখিল এবং নীতিন কামাতের হাত ধরে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অনলাইন স্টক ব্রোকার সংস্থাটি। কিন্তু ১৩ বছরের মধ্যে তার বার্ষিক টার্নওভারের অঙ্ক শুনলে চোখ কপালে উঠবে। শুধু তাই নয়, হাঁ হয়ে যেতে হবে দুই ভাইয়ের বার্ষিক বেতনের অঙ্ক শুনলেও। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে নাকি কামাত ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রত্যেকে ৭২ কোটি করে টাকা ঘরে তুলেছেন!
জিরোধার বাজারমূল্য এখন মার্কিন ডলারের নিরিখে ৩.৬ বিলিয়ন, অর্থাৎ ভারতীয় অঙ্কে ৩০ হাজার কোটি টাকা! ব্রোকারেজের বাজারে অত্যন্ত অল্প সময়ে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছে সংস্থাটি, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। সূত্রের খবর, সংস্থার পূর্ণ সময়ের পরিচালক এবং নীতিন কামাতের স্ত্রী সীমা পাটিল এই অর্থবর্ষে উপার্জন করেছেন ৩৬ কোটি টাকা। সংস্থার চিফ অপারেটিং অফিসার বেনু মাধবের পারিশ্রমিক যদিও অনেকটাই কম, মাত্র ১৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
শুধু সংস্থার ডিরেক্টরদের নিজেদের রোজগার বৃদ্ধিই নয়, 2022 অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি বছর জিরোধার কর্মীদের বেতন এবং অনান্য সুবিধা বাদ খরচ ৪৫৯ কোটি টাকা থেকে ৩৫.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ কোটি টাকা। ডিরেক্টর সহ সংস্থার সমস্ত কর্মীদের বেতন দিতে এই বছর খরচ হয়েছে ৩৮০ কোটি টাকা। ৬২৩ কোটি টাকার মধ্যে ২৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এমপ্লয়ি স্টক ওনারশিপ প্ল্যান ক্রয় করার জন্য। সূত্রের খবর, এই পুরো টাকাটাই নাকি দেওয়া হয়েছিল নগদে!
গত কয়েক মাসে জিরোধা কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। তার জন্য নীতিন কামাত গত মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে এই ত্রুটিগুলি সংস্থার ৫ থেকে ২০ শতাংশ সক্রিয় গ্রাহকদের যথেষ্ট প্রভাবিত করেছে।
এই প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করে নীতিন জানিয়েছেন, গত ৬ নভেম্বর এবং ৪ ডিসেম্বর যে সমস্যাগুলি দেখা দিয়েছিল সেগুলি মূলত সংস্থার বাহ্যিক নির্ভরতার কারণে ঘটেছিল। "এটা কোনও অজুহাত নয়, এবং আমি জানি যে একটা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আমরা এর জন্য দায়ী। তবে আমি শুধু বিষয়টা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিলাম এটা জানাতে যে কোথায় কী গোলমাল হয়েছিল এবং সেটা মেরামত করতে আমরা কী করছি," লিখেছেন নীতিন।
২০২৩ অর্থবর্ষে গত বছরে তুলনায় জিরোধার সার্বিক আয় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, কর মিটিয়ে দেওয়ার পরেও সংস্থার মুনাফা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেড়ে তা ২৯০৭ কোটি টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে।
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবর্ষের শেষে অনলাইন এই স্টক প্রকার সংস্থাটির মার্কেট শেয়ার ছিল ১৯.৬ শতাংশ এবং এটির দৈনিক গড় টার্নওভার ২ হাজার কোটি টাকা।