
শেষ আপডেট: 22 January 2024 18:26
নরেন্দ্র মোদী, যোগী আদিত্যনাথেরা মঞ্চে থাকবেন আর ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রসঙ্গ আসবে না, এমনটা সাধারণত হয় না। তাই বলে রামমন্দিরের উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যে বিজেপির এই রাজনৈতিক বক্তব্য শোনা যাবে, এমনটা হয়তো অনেকেই আশা করেননি। কিন্তু যোগী আদিত্যনাথ সেই অবাক করা কাণ্ডটাই করলেন।
সোমবার মন্দির উদ্বোধন এবং রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান শেষে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী ভাষণের শেষ লগ্নে এসে ডবল ইঞ্জিন (কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার) সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তুলে ধরেন, কীভাবে দুই সরকারের হাত ধরে অযোধ্যার রূপবদল হচ্ছে।
অযোধ্যার রূপ বদলের দাবি অবশ্য মিথ্যে নয়। গোটা শহর জুড়ে চলছে ভাঙাগড়ার কাজ। অসংখ্য পে-লোডার শহরের নানা জায়গায় দাঁড়িয়ে। পূণ্যার্থীর ভিড় কমে গেলেই সেগুলি ফের কাজ শুরু করবে। তবে শহরে এক ঝলক দেখেই বোঝা যায়, কীভাবে দোকান-বাজার ভেঙে রাস্তা চওড়া করা হয়েছে। বিরোধীরা যাকে ‘বুলডোজার উন্নয়ন’ বলছে। রাস্তা চওড়া করতে বহু দোকান, বাড়ি ভেঙে অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে।
যোগীর উন্নয়নের অন্যতম হল এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি এবং রাজপথ থেকে গলি সর্বত্র রাস্তা চও়ড়া করা। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের দৃষ্টান্ত হল নতুন বিমান বন্দর এবং প্রশস্ত রেল স্টেশন, অত্যাধুনিক অতিথিশালা। বিরোধীদের খোঁচা দিয়ে যোগী বলেন, বিমান বন্দর, সরযূতে আধুনিক নৌ-যান চালানোর কথা অনেক শোনা গিয়েছিল। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলি বাস্তবায়িত হয়েছে।
অযোধ্যার উন্নয়নকে তাঁর সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী যোগীর সংযোজন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে।’ অযোধ্যার সঙ্গে নিজের এবং সরকারের যোগসূত্র গড়ে তুলতে যোগী একাধিক পদক্ষেপ করেছেন। একাধিকবার মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন এই শহরে। সোমবার মন্ত্রীদের অযোধ্যায় আসতে বারণ করেছিলেন। যোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ১ ফেব্রুয়ারি অযোধ্যায় সব মন্ত্রীদের নিয়ে রাম মন্দিরে পুজো দেবেন। তারপর হবে অযোধ্যাতেই হবে মন্ত্রিসভার বৈঠক। পরদিন লখনউয়ে বিধানসভায় আগামী আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করা হবে।