
যোগী আদিত্যনাথ
শেষ আপডেট: 3 July 2024 15:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়াই কাল! পদপিষ্ট হয়ে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের। উত্তরপ্রদেশের হাথরাস আবার উঠে এসেছে খবরের শিরোনামে। ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। তবে তিনি এও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দুর্ঘটনা যাঁদের জন্য হয়েছে তাঁদের কাউকে রেয়াত করা হবে না।
নারায়ণ সাকার ওরফে ‘ভোলে বাবা’ নামে স্বঘোষিত এক ধর্মগুরুর ডাকে এই 'সৎসঙ্গ' অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এর পাশাপাশি রাজ্য সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি এও জানান, এখন থেকে এই সব অনুষ্ঠান করতে গেলে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল মানতে হবে।
আদিত্যনাথ হাথরাসের এই ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ তো করেছেন। তবে তিনি আয়োজকদের নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ''অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দুর্ঘটনার বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতবড় ঘটনা লুকোনোর চেষ্টা করে তারা কেউ পার পাবে না।''
যোগীর কথায়, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বলা ভুল হবে। যদি সেটাই হয়, তাহলে এতবড় ষড়যন্ত্রের পিছনে কে বা কারা আছে, তা জানতে হবে। আর এই জন্যই হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়া কমিটি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, যেখানে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে অতি বেশি সংখ্যক মানুষ ডুকে পড়েছিলেন এবং ভিড় সামলানোর জন্য আয়োজকদের তরফে বিশেষ কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের বা বেরানোর পথটিও ছিল অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। তারই জেরে হুড়োহুড়ি থেকে পদপিষ্টের ঘটনা।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত 'ভোলে বাবা'র নাম এর আগেও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছিল। তাঁকে নিয়ে প্রথম বিতর্ক হয় ২০২২ সালে, করোনাকালে। উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদে তিনি একটি সৎসঙ্গের আয়োজন করেন। যেখানে পুলিশ প্রশাসন মাত্র ৫০ জনের উপস্থিতির অনুমোদন দেয়। কিন্তু, করোনা বিধি ভেঙে তিনি ৫০ হাজার ভক্তের জমায়েত করেছিলেন।