
প্রধানমন্ত্রী সারা বছর ধরে কোন দেশে গিয়ে বন্ধুত্ব-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন।
শেষ আপডেট: 20 December 2024 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'বিশ্বগুরু' ভারতকে জগৎসভায় তৃতীয় আসনে (অর্থনীতি) বসাতে বছরভর ঘাম ঝরিয়ে বিশ্বভ্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রায় সব দেশের সঙ্গে চুক্তি-আলোচনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, পরিবেশ নিয়ে বিস্তর আলোচনা করলেন। আজ ইংরেজি ২০২৪ সাল যখন শেষের পথে তখন দেখে নেওয়া যাক প্রধানমন্ত্রী কোন কোন দেশ ঘুরে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝালেন এবং তাতে দেশের মূল কোন কোন বিষয়ে ফায়দা হল।
২০২৪ সাল শেষ হয়ে ২০২৫ সালকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সকলে। দেখা যাক প্রধানমন্ত্রী সারা বছর ধরে কোন দেশে গিয়ে বন্ধুত্ব-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমরা সকলেই জানি, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মোদী দেশভ্রমণে তাঁর প্রাক্তনদের পিছনে ফেলে দিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতার
এ বছরের গোড়ায় ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমিরশাহি সফরে গিয়েছিলেন মোদী। স্বামী নারায়ণ মন্দির উদ্বোধন করা মূল উদ্দেশ্য হলেও সেখানে সরকার-প্রশাসনের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রীর। ভারত ও আরব আমিরশাহির সঙ্গে বেশ কয়েকটি চুক্তি হয় ওই সফরে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি শুধু তেলের খনিই নয়, ইদানীং পর্যটকদের কাছেও অতি আকর্ষণীয় বেড়ানোর জায়গা। অনেকেই এখন আমিরশাহি ভ্রমণে যাচ্ছেন এবং সেদেশও পর্যটন শিল্পকে উৎসাহ দিচ্ছে। বিশেষত দুবাইয়ের প্রতি মোহ তো দিনদিন বাড়ছে। এই শহরেই রয়েছে বুর্জ খলিফা। প্রতিবছর ভারত সহ বিশ্বের কয়েক লক্ষ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন।
ভুটান
মার্চ মাসের গরমে ২২-২৩ তারিখে ভুটান সফরে যান প্রধানমন্ত্রী মোদী। নেপালের মতোই ভুটান ভারতের পড়শি দেশ। অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা ছোট্ট পাহাড়ি দেশ ভুটান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে-র আমন্ত্রণ রক্ষায় সেখানে গিয়েছিলেন। এখানে সস্তায় সোনা মেলে। কম খরচে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ নিতে আগামী বসন্তকালে অবশ্যই ঢুঁ মারা যেতে পারে ভুটানে। ভিসা ছাড়াই ১৪ দিন পর্যন্ত সেখানে পর্যটনের সুযোগ রয়েছে ভারতীয়দের। সেদেশের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি শিল্প, সড়ক, বিদ্যুৎ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করেছে বিজেপি সরকার।
ইতালি
জি ৭-এর বৈঠক উপলক্ষে ১৩-১৪ জুন ইতালি সফর করেছিলেন মোদী। ইতালির সব প্রান্তেই ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি, সৌন্দর্যের অপার মিশেল। বলিউডের অধিকাংশ অভিনেতার পছন্দের বেড়ানোর দেশ হল ইতালি। এই ইতালি সফরে গিয়ে মোদী বিশ্বের তাবড় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশ্ব রাজনীতি থেকে বাণিজ্যনীতি, কূটনৈতিক মত আদানপ্রদান করেন। তেমনই ইতালি চিরকালই সেলেবদের পছন্দের জায়গা। বিয়ে থেকে হানিমুনের এক স্বপ্নের জগৎ ছড়িয়ে রয়েছে এই দেশ জুড়ে। রোম, ফ্লোরেন্স, ভেনিস, আমালফি উপকূল ভ্রমণার্থীদের প্রিয় জায়গা।
রাশিয়া
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেই রাশিয়া গিয়েছিলেন মোদী। ২২-তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। যা হয়েছিল জুলাই মাসে। ৮ জুলাই থেকে ১০ জুলাইয়ের এই সফরে রাশিয়ার পর অস্ট্রিয়া সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভারতে আসার আমন্ত্রণও জানিয়ে এসেছেন মোদী। তবে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে তেমন কোনও বড়সড় ঘোষণা হয়নি এই সফরে। যদিও চিনের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়াকে পাশে পাওয়া এক নৈতিক জয় বলে অনেকেই মনে করেন। রাশিয়াও পর্যটকদের জন্য আদর্শ অনুকূল জায়গা। সব থেকে বড় কথা বিশ্বের মধ্যে রাশিয়া নিরাপদতম দেশ পর্যটকদের জন্য। অগস্টের ২১ থেকে ২৩ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদী গিয়েছিলেন পোল্যান্ড ও ইউক্রেনে।
সিঙ্গাপুর
সেপ্টেম্বরের ৩ থেকে ৫ পর্যন্ত মোদী গিয়েছিলেন ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুর ভ্রমণে। দুটি দেশের সঙ্গেই বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়েছে ভারতের। বিশেষত বাঙালি ও ভারতীয় পর্যটকের কাছে দুটি দেশই ঘোরার পক্ষে প্রথম তালিকায় থাকে। সিঙ্গাপুরের মিউজিয়াম, জুরোং পাখি উদ্যান, সরীসৃপ পার্ক, চিড়িয়াখানা, সায়েন্স সেন্টার, সেন্টোসা দ্বীপ এবং জাপানিজ গার্ডেন অন্যতম পর্যটনস্থল। এছাড়াও বেশ কিছু হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরও রয়েছে।
সেপ্টেম্বরেই প্রধানমন্ত্রী ২১ তারিখে তিনদিনের সফরে যান আমেরিকায়। সেখানে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সহ আগামী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে আসেন মোদী। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও চিনের মতো পড়শি নিয়ে এবং বাণিজ্যিক আলোচনা হয় দুই দেশের নেতার মধ্যে। পরের মাসের ১০ অক্টোবর ও ১১ অক্টোবর লাওস, ২২ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর ফের রাশিয়া এবং অবশেষে ১৬-২২ নভেম্বর নাইজেরিয়া, ব্রাজিল ও গুয়ানা সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।