মন্ত্রক চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেয়, নির্দেশ না মানলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

এক্স-গ্রোক (ছবি- সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 11 January 2026 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের চিঠির পর নড়েচড়ে বসল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)। সরকারি সূত্র বলছে, অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৩,৫০০টি পোস্ট ব্লক করেছে তারা এবং ৬০০টি অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি ডিলিট করা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এই ধরনের কনটেন্ট আর বরদাস্ত করা হবে না- এমন আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি। সরকারের নিয়ম মেনেই দেশে এই প্ল্যাটফর্ম চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এক সপ্তাহ আগে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (Ministry of Electronics and Information Technology) এক্স কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানায়, প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল, নগ্ন ও আপত্তিকর কনটেন্ট ভয়াবহ হারে বাড়ছে। বিশেষ করে এক্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী গ্রোক (Grok) ও এক্সএআই (xAI)-এর অন্যান্য পরিষেবার অপব্যবহার করে মহিলাদের ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে ছড়ানো হচ্ছে। সেই চিঠিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়।
মন্ত্রক চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেয়, নির্দেশ না মানলে ভারতীয় আইন অনুযায়ী কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে। শুধু প্ল্যাটফর্ম নয়, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারের বক্তব্য, গ্রোককে ব্যবহার করে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বানিয়ে যা সব করা হচ্ছে, তা একেবারেই অনৈতিক ও বেআইনি।
এই প্রেক্ষিতে মন্ত্রক এক্সকে তখনই নির্দেশ দেয়, গ্রোকের প্রযুক্তিগত ও গভর্ন্যান্স কাঠামোর (technical and governance framework) পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি, কড়া ইউজার পলিসি কার্যকর করতে হবে-নিয়ম ভাঙলে অ্যাকাউন্ট সাসপেনশন থেকে টার্মিনেশন, সব ব্যবস্থাই নিতে হবে।
এছাড়া মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, এই ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act)ধারা ৭৯ অনুযায়ী এক্সের ‘সেফ হারবার’ সুবিধা (safe harbour)বাতিল হতে পারে। সেই সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita), নারী অশালীন উপস্থাপনা আইন (Indecent Representation of Women Act) এবং শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনের (POCSO Act) আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গোটা ঘটনাটি শুধু ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি বিকৃতি, সিন্থেটিক আউটপুট বা প্রম্পটের মাধ্যমে মহিলাদের লক্ষ্য করে কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। মন্ত্রকের ভাষায়, এটি প্ল্যাটফর্মের সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ব্যর্থতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চরম অপব্যবহার।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রের কড়া নজরদারির মুখে পড়ে আপাতত রাশ টানতে বাধ্য হল এক্স। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-এই আশ্বাস কতটা বাস্তবে কার্যকর হবে, নাকি ফের নিয়মভাঙার অভিযোগ উঠবে, সেটাই এখন দেখার।