
বম্বে হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 23 August 2024 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও ইমেলে বা সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও পোস্টে মেয়েদের অবমাননাকর কোনও শব্দ ব্যবহার করলেও তা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে মামলাযোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হবে। ৫০৯ ধারায় (মহিলাকে অপমান করার উদ্দেশে কোনও শব্দের জন্য শাস্তি) সাজা পেতে পারেন অভিযুক্ত। সম্প্রতি বম্বে হাইকোর্টের একটি মামলায় এমনই রায় দিয়েছেন বিচারপতিরা।
মুম্বইয়ের কোলাবার একটি সোসাইটির বাসিন্দা জোসেফ ডি'সুজার ২০১১ সালে দায়ের করা একটি রিট পিটিশন মামলার সময়ে এই পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট।
জানা গেছে, জোসেফ ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি এফআইআর বাতিল করতে চেয়ে এই পিটিশন করেছিলেন। এফআইআরটি করেছিলেন, তাঁর সোসাইটির বাসিন্দা জিনিয়া খাজোটিয়া। ওই এফআইআর-এর সারবত্তা হল, জোসেফ এবং জিনিয়ার মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই সময়ে, ২০০৯ সালে জোসেফ জিনিয়াকে বেশ কয়েকটি ইমেল করে, যাতে জিনিয়ার চরিত্র নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই মেল সোসাইটির অন্যান্য সদস্যদেরও সিসি করে পাঠানো হয়েছিল।
আপত্তিকর ইমেলগুলির মধ্যে দেখা যায়, জিনিয়াকে 'প্রিয় বনি' বলে সম্বোধন করেছিলেন জোসেফ। তবে এই 'প্রিয়' সাধারণ অর্থে নয়, 'বনি'ও নাম অর্থে নয়, সে সময়ে হিট হওয়া একটি বিখ্যাত সিনেমা 'বনি'র চরিত্রকে ইঙ্গিত করে করা। এই 'বনি' ডাকটি জিনিয়াকে অপমান করার উদ্দেশেই লেখা হয়েছিল বলেই প্রতিপন্ন হয় আদালতে। বিচারকরা জানান, এই সম্বোধন নিঃসন্দেহে মানহানিকর এবং সমাজের চোখে এবং বিশেষ করে যাঁদের কাছে এই মেলের কপি পাঠানো হয়, তাঁদের কাছেও জিনিয়ার ভাবমূর্তি ও সুনামকে ক্ষুণ্ণ করে।
যদিও প্রাথমিক ভাবে বিচারপতি অজয় গড়কড়ি এবং ডাঃ নীলা গোখলের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ৫০৯ ধারায় মামলা দায়ের করার অনুমতি দিতে অস্বিকার করেছিল। তবে পরে এই মামলায় উঠে আসে, জোসেফের 'উচ্চারিত' শব্দের অর্থ কেবলই একটা মুখে বলে অপমান করা নয়, এটি রীতিমতো 'লিখিত শব্দ' নয়।
একথা বিচার করে বিচারকরা বলেন, 'আধুনিক প্রযুক্তির আবির্ভাবে যোগাযোগের বিস্তৃত মাধ্যম খুলে গেছে। এই অবস্থায় আপত্তিকর বিষয়বস্তু সম্বলিত কোনও ইমেল যখন একজন মহিলার শালীনতাকে ক্ষুব্ধ করে, তখন কি আমরা অপরাধীকে নিঃশব্দে চলে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারি? ন্যায়বিচারের নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে আইনি নীতির পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।'
বিচারকরা আরও বলেন, 'আইন হল গতিশীল সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা। আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যই হল সেটি। একজন মহিলার শালীনতার অনুভূতিকে আঘাত করতে পারে এমন কোনও অপরাধকে রোধ করাই আইনের কাজ। কেবল মৌখিক গালি বা অঙ্গভঙ্গি করাও যেখানে অপরাধ, সেখানে লিখিত শব্দের ব্যবহার তো আরও গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি তা না হয়, তাহলে অনেকেই ইমেলে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবাধে অপমানজনক শব্দ লিখে মেয়েদের শালীনতা ক্ষুণ্ণ করার সাহস পাবে। আধুনিক প্রযুক্তির আবহে এমনটাই ঘটতে পারে।'