সোমবার নয়াদিল্লিতে নারী শক্তি বন্দন সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি জানান, আইনে সংশোধন নারীর শক্তিকে সম্মান জানানো এবং ভবিষ্যতের ভারত গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 13 April 2026 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু প্রতিক্ষিত নারী সংরক্ষণ আইনে বদল আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংশোধনের জন্য় তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, দেশ, ভারতের সংসদ ইতিহাস গড়ার দোড়গোড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই সংশোধনীগুলি নারী শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও উৎসর্গ হিসেবে আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের ভবিষ্যতের সংকল্পগুলি পূরণ করতে সহায়ক হবে। মূলত নারী শক্তির ক্ষমতায়ন এবং দেশের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ আরও সুনিশ্চিত করতেই এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ।'
সোমবার নয়াদিল্লিতে নারী শক্তি বন্দন সম্মেলনে (Nari Shakti Vandan Sammelan) অংশ নিয়ে তিনি জানান, এই সংশোধন নারীর শক্তিকে সম্মান জানানো এবং ভবিষ্যতের ভারত গড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Reservation Act) এমন এক ভারতের সংকল্প, যেখানে সাম্য ও সামাজিক ন্যায় কেবল স্লোগান নয়, বরং সংস্কৃতির অঙ্গ। মোদীর কথায়, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের লক্ষ লক্ষ মা-বোনের আশীর্বাদ পাচ্ছে সরকার।” তিনি স্পষ্ট করেন, এখানে কাউকে উপদেশ দিতে নয়, বরং মহিলাদের জাগিয়ে তুলতে এসেছেন।
এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে ২০২৯ সালকে লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। ২০২৯-এর মধ্যে এই আইন বাস্তবায়নের ব্যাপারে সর্বসম্মত দাবি উঠেছে। সেই লক্ষ্য মাথায় রেখে ১৬ এপ্রিল থেকে সংসদে বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে এদিন জানান প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের চেষ্টা থাকবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে সংসদের মর্যাদা আরও বাড়বে।”
সমাজে মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের সর্বোচ্চ পদ থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব—সব ক্ষেত্রেই মহিলারা নিজেদের ছাপ রেখেছেন। তিনি তাই মনে করেন, ভারতে যখনই মহিলারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরা নিজেদের আলাদা ইতিহাস তৈরি করেছেন।
এনিয়ে তথ্য তুলে ধরে মোদী বলেন, 'দেশে স্থানীয় প্রশাসনে বর্তমানে ১৪ লক্ষেরও বেশি মহিলা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। প্রায় ২১টি রাজ্যে পঞ্চায়েত স্তরে তাঁদের অংশগ্রহণ প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে তাঁরা বিস্মিত হয়ে যান। এটা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। লক্ষ লক্ষ মহিলার সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্বনেতাদের কাছেও বিস্ময়কর এবং ভারতের গর্বের বিষয়।'
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে প্রশাসনে সংবেদনশীলতা ও দায়বদ্ধতা বাড়ে। সেই কারণেই এই আইন ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।