
শেষ আপডেট: 25 December 2023 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল জীবনে সহপাঠীকে ভালোবসে ফেলেছিলেন। তাঁকেই বিয়ে করার জন্য লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন। নতুন নাম নিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে মেলামেশা শুরু করেন। কিন্তু বিয়ে করতে রাজি ছিলেন বান্ধবী। বিয়ে করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এতেই খেপে গিয়ে সহপাঠীকে তাঁর জন্মদিনে ব্লেড দিয়ে হাত, কাঁধ কেটে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে খুন করেন পান্ডি মুরুগেশ্বরী ওরফে ভেত্রিমারণ।
শনিবার নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চেন্নাইয়ের থালাম্বুরে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্কুলে পড়াশোনার সময় থেকে নন্দিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতেন মুরুগেশ্বরী। পুলিশ জানিয়েছে, লিঙ্গ পরিবর্তনের পর ভেট্রিমারানের সঙ্গে নন্দিনী সম্পর্কে যেতে রাজি হয়নি।
স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তিতে বিএসসি ডিগ্রি নেন নন্দিনী। এরপর গত আট মাস আগে চেন্নাইয়ের একটি সংস্থায় চাকরি পাওয়ার পর মামার বাড়িতেই থাকতেন নন্দিনী। গত ২৪ ডিসেম্বর ছিল তাঁর জন্মদিন। ওইদিন ভেট্রিমারান ফোন করে নন্দিনীকে দেখা করতে বলেন।
স্কুলের সহপাঠীর ফোনে সাড়া দিয়ে দেখা করেছিলেন নন্দিনী। এরপর তারা একটি দোকান থেকে কিছু নতুন জামাকাপড় কেনার পর তাম্বারানে কাছে একটি অনাথ আশ্রমে দান করার জন্য গিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, ফেরার পথে চেন্নাইয়ের পোনমারের কাছে একটি নির্জন জায়গায় বাইক দাঁড় করিয়েছিলেন অভিযুক্ত। নন্দিনীর একটি ছবিও তুলেছিলেন তিনি। এরপরই চেন দিয়ে নন্দিনী হাত ও পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে দেয় সে। শুধু তাই নয়, গায়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার আগে নন্দিনীর ঘাড় ও হাত ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নন্দিনীর চিৎকারে আশপাশ থেকে পথচলতি মানুষ ছুটে আসে। সেসময়ই পালিয়ে যায় ভেট্রিরামন। স্থানীয়রাই পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অগ্নিদগ্ধ নন্দিনীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এরপর রবিবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভেট্রিরামনের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
লিঙ্গ পরিবর্তনের পর তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করার জন্য এই খুন বলে মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে জানিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।