
কেরলে জোড়া খুনে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শেষ আপডেট: 29 January 2025 15:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠিক যেন মালায়লম ক্রাইম থ্রিলারের নিখুঁত চিত্রনাট্য! ছোট শহরে পাশাপাশি বাস করে দুই পরিবার। সেখানে এক প্রতিবেশী খুন করে তার পড়শির স্ত্রীকে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সাজা পায়। জেলে যায়। তারপর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসে। এবং ফিরে এসে ফের একবার খুন করে। এবার শিকার খোদ সেই প্রতিবেশী এবং তাঁর মা। খুনের পর অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। লুকিয়ে থাকে জঙ্গলে। তল্লাশি অভিযানে ফাঁদ পাতে পুলিশ। যেখানে ধরা পড়ে জোড়া খুনের আসামী।
একাধারে মর্মান্তিক ও আশ্চর্যজনক এই খুনের ঘটনায় তোলপাড় কেরলের পালাক্কড় জেলা। পালাক্কড়ের নেনমারায় চেন্থামারা নামে এক ব্যক্তিকে সর্বমোট তিনটি খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে প্রথম খুনটি সে করেছিল ছ’বছর আগে, ২০১৯ সালে। মৃত মহিলার নাম সাজিতা। আর বাকি দুজনকে হত্যা করেছে সোমবার। তাঁদের একজন সাজিতার স্বামী সুধাকরণ। অন্যজন সুধাকরণের মা।
গোটা ঘটনায় বিতর্কের আঁচ ছড়িয়েছে নেনমারায়। কোন যুক্তিতে চেন্থামারাকে ছাড়া হল, কেন আক্রমণের আগাম আন্দাজ পেয়ে সুধাকরণের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—জানতে চেয়ে থানা ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুধাকরণের দুই মেয়ে অখিলা ও অতুল্যা বাবা মা দুজনকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, ২০১৯ সালে মাকে হত্যা করে চেন্থামারা। জেলে যায়। কিন্তু জামিনে খালাস পেয়ে সম্প্রতি ফিরে আসে সে। সোমবার রাতে অতর্কিতে চড়াও হয় সুধাকরণের উপর। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে তাঁকে। পরে একই কায়দায় হত্যা করে সুধাকরণের মাকেও।
খুনের পর একটি জঙ্গলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। পিছু ধাওয়া করে পুলিশ। ঘন জঙ্গল। তার উপর চেন্থামারার চেনাপরিচিত হওয়ায় হাতেনাতে ধরতে বেগ পেতে হয় বাহিনীকে। শেষ পর্যন্ত তল্লাশি শেষের ঘোষণা করার ফাঁদ পাতে পুলিশ। একথা কানে যেতেই ৩০ ঘণ্টা ধরে অনাহারে থাকা চেন্থামারা বেরিয়ে এসে অন্যত্র পালানোর ফন্দি আঁটে। আর ঠিক তখনই ওঁত পেতে থাকা পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করে তাকে।
আটক করার পর জেরায় মুখ খুলেছে চেন্থামারা। তার দাবি, সুধাকরণের দ্বিতীয় স্ত্রী ঘরে আসার পর তার (চেন্থামারার) পরিবারের ক্ষতি চেয়ে ঝাড়ফুঁক করত। তা ছাড়া প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে সুধাকরণ তাকে খুন করতে পারে—আগাম একথা ভেবে ভয় পেয়েছিল সে। তাই পথের কাঁটা সরাতে হত্যার পথ বেছে নেয়।