
শেষ আপডেট: 28 November 2023 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথিত রয়েছে, 'কুপুত্র যদিবা হয়, কুমাতা কদাপি নয়।' তবে এ কী শুধুই প্রবাদ! সম্প্রতি একটি ঘটনা যেন তেমনটাই প্রমাণ করেছে। এক মায়ের উপস্থিতিতে দিনের পর দিন মেয়েদের ধর্ষণ করেছে তাঁর প্রেমিকরা। এমনই ‘ঘৃণ্য’ অপরাধের জন্য মহিলাকে কঠিন শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সঙ্গে বিচারক বলেন “ইনি মাতৃত্বের নামে আদ্যোপান্ত লজ্জা।“
২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর। একাধিকবার প্রেমিকদের কাছে নিয়ে গিয়েছেন মা। তাঁর উপস্থিতিতেই লাগাতার মেয়েদের ধর্ষণ করেছেন তাঁর প্রেমিকরা। সোমবার সংশ্লিষ্ট মামলায় কেরলের একটি দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত ওই মহিলাকে ৪০ বছরের কঠিন কায়িক শ্রমের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকার জরিমানার রায় দিয়েছে। সেখানেই গোটা ঘটনাটির বর্ণনা দেন সরকার পক্ষের আইনজীবী আর এস বিজয় মোহন।
সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ওই মহিলার দুই কন্যার এক জনের বয়স ১২, অন্য জনের ৮ বছর। দুই মেয়েকে নিয়ে প্রেমিকের কাছে থাকতেন ওই মহিলা। সাত বছর বয়সে মহিলার প্রথম প্রেমিকের হাতেই যৌন হেনস্থার শিকার হয় তাঁর বড় মেয়ে। কিন্তু ঘটনাটি জানালেও মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি মা। উল্টে তাঁর উপস্থিতিতেই দিনের পর দিন শারীরিক নির্য়াতন চলত বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়েই মেয়েটি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর পুরো ঘটনা নিজের দিদাকে জানায় সে। তিনিই নাতনিকে শিশুদের হোমে পাঠিয়ে উদ্ধার করেন।
এখানেই শেষ নয়, দিদির পর ছোট বোনের উপরও শুরু হয় অত্যাচার। প্রথম প্রেমিকের পর দ্বিতীয় প্রেমিকের কাছেও ছোট মেয়েকে নিয়মিত নিয়ে যেতেন মা। সেখানেও মায়ের উপস্থিতিতেই ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থা চলত বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী।
স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় দুই মেয়েকে নিয়ে প্রেমিকদের কাছে থাকতেন মহিলা। নিয়মিত যৌন হেনস্থার কারণে মেয়েদের গোপনাঙ্গ জখম হয়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই বিষয়টি দিদাকে জানায় মেয়েরা। আর দিদা পুলিশকে জানানোর পরই শুরু হয় তদন্ত।
ঘটনাটিতে পুলিশ মা ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। কিন্তু শুনানি চলাকালীন প্রেমিক আত্মহত্যা করায় শুধুমাত্র মায়ের বিরুদ্ধেই মামলা চলছিল। সংশ্লিষ্ট মামলায় মোট ২২ জন সাক্ষী এবং ৩৩ টি নথি বিচার করে সোমবার রায় দিয়েছে আদালত।