
শেষ আপডেট: 21 October 2023 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই কবে কবিগুরু লিখে গিয়েছেন, ‘প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পড়ে, কে জানে।’ যার প্রতিফলন যেন রয়েছে আধুনিক দুনিয়াতেও। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে প্রতারণা করা যেন আরও সহজ হয়ে গিয়েছে। ঠিক যেমনটা করেছিলেন দিল্লির এক যুবতী। প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে প্রায় ১০ জনের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও শেষমেশ ধরা পড়েছেন পুলিশের জালে। গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর দুই সঙ্গীকেও।
পুলিশ সূত্রের খবর, মাস দুয়েক ধরে রাজধানীর বাসিন্দা সুরভি গুপ্ত বিভিন্ন জনের থেকে টাকা হাতিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লির এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে যুবতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, একটি অনলাইন ডেটিং অ্যাপে সুরভির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় বন্ধুত্বের সম্পর্কে পরিণতি পায়।
কিছুদিনের মধ্যেই দেখা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন অভিযুক্ত যুবতী। দিল্লির একটি পানশালায় দেখা করেন তাঁরা । সেখান থেকে সুরভিকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে যান তিনি। অভিযোগ, বাড়িতে মদ্যপান করার সময় তাঁকে রান্নাঘরে পাঠিয়ে দেন সুরভি। সেই সুযোগে নাকি তাঁর পানীয়ে কিছু মিশিয়ে দিয়ে তাঁকে অজ্ঞান করে দেন ওই যুবতী। জ্ঞান ফিরতেই ওই ব্যক্তি খেয়াল করেন, তাঁর সোনার হার, আইফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা-সহ ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সমস্ত কিছু নিয়ে চম্পট দিয়েছে সুরভি। এমনকী ওই কার্ডগুলো ব্যবহার করে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না তিনি। শেষে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অভিযুক্ত ওই যুবতীর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে সোনার হার, ১৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, নগদ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, দুটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি ঘড়ি উদ্ধার করা হয়। জেরায় নিজের দুই সঙ্গী বিশাল ও সুশীলের কথা জানায় সুরভি। ইতিমধ্যে তাঁদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, সাক্ষী,পায়েল এই ধরনের বিভিন্ন নামে পরিচিতি দিয়েই প্রেমের ফাঁদ পাততেন সুরভি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করার পর লন্ডনের এক ইনস্টিটিউশন থেকে এমবিএ পাশ করেন সুরভি। প্রতারণা চক্র শুরু করার আগে তিনি বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় কাজও করেছেন।
গত ১২ অক্টোবর দিল্লির চাঁদনি চকের বাড়ি থেকে সুরভিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের পর গত বৃহস্পতিবার তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। জেরায় সমস্ত অপরাধ স্বীকার করেন তরুণী। গত দুমাস ধরে কমপক্ষে ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা তিনি হাতিয়েছেন বলে জানান।