
সৃষ্টি তুলি
শেষ আপডেট: 28 November 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার ইন্ডিয়ার এক মহিলা পাইলটের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁর প্রেমিক তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা করতেন এমনকী খাবার নিয়েও কথা শোনাতে ছাড়তেন না। তরুণীকে জোর করে নিরামিষ খাবার খাওয়ানো হত বলেও দাবি করা হয়েছে। এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে মুম্বইয়ে থাকতেন ২৫ বছর বয়সি তরুণী সৃষ্টি তুলি। ওই শহরেই আদিত্য পণ্ডিত নামের এক যুবকের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। পরে দুজনের সম্পর্ক প্রেমে বদলে যায়। একসঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। ওই ফ্ল্যাট থেকেই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মোবাইলের চার্জার গলায় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেতেই পরিবার ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, মেয়েকে তাঁর অনিচ্ছায় অনেক কাজ করানো হত। আমিষ খাবার নিয়ে খোঁটা দেওয়া হত, জোর করে নিরামিষও খাওয়ানো হত। একই সঙ্গে চলত মানসিক অত্যাচার। অবসাদের কারণেই এই কাজ করেছেন তরুণী এমনটাই দাবি পরিবারের। সেই প্রেক্ষিতেই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত জেনেছে, বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে আমিষ খেয়েছিলেন সৃষ্টি। সেটা জানতে পেতে ক্ষুব্ধ আদিত্য তাঁকে খুব অপমান করেন। তারপরই তরুণী আত্মঘাতী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকী আদিত্য দিল্লি যাচ্ছিলেন। মাঝপথে তাঁকে ফোন করে তরুণী নিজের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছিলেন। তবে আদিত্য দিল্লি না গিয়ে ফ্ল্যাটে ফিরে এসেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
আরও এক তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে যে, মৃত্যুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে মা এবং কাকিমার সঙ্গে ভালমতোই কথা বলেছিলেন তরুণী। তাঁকে বেশ হাসিখুশিই লেগেছিল তাঁদের। কেউই ঘুণাক্ষরে টের পাননি যে তিনি এত বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, খুন। বিষয়টিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায়ই তাঁদের মধ্যে নানা বিষয়ে ঝামেলা হত বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।