
শেষ আপডেট: 19 February 2024 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কমলনাথ কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যাবেন কি না তা নিয়ে জল্পনা এখনও অব্যাহত। যদিও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বালা বচনরা দাবি করেছেন, কমলনাথ কংগ্রেসে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। বিজেপিতে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বিজেপিরও কোনও গুরুত্বপূর্ণ নেতা কমলনাথের পদ্ম শিবিরে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কংগ্রেসের সামনে আশার বিষয় হল, কমলনাথ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রফাইল থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ কথাটি সরিয়ে দিয়েছেন।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, উত্তর প্রদেশে ভারত জোড়ো যাত্রায় ব্যস্ত রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কমলনাথের দু’বার কথা হয়। রাহুল তাঁকে অমেঠি ও রায়বেরলিতে তাঁর সঙ্গে যাত্রায় অংশ নিতে অনুরোধ করেন। কমলনাথের সঙ্গে ফোনে কথা হয় সনিয়া এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধীদেরও। তবে এখনও কমলনাথ বা তাঁর পুত্র এমনকী ঘনিষ্ঠ কেউ প্রকাশ্যে সরকারিভাবে দলবদলের জল্পনায় পুরোপুরি জল ঢালেননি। যদিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব মোটের উপর নিশ্চিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য তথা মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি কমলনাথ বিজেপিতে যাচ্ছেন না। কংগ্রেসেই থাকছেন।
শুধু গান্ধী পরিবারই নয়, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কমলনাথকে শান্ত করার চেষ্টায় নেমেছে। মধ্যপ্রদেশের এই নেতাকে দলে ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস হাইকমান্ড। সাম্প্রতিককালে আর কেনও নেতার ব্যাপারে কংগ্রেস নেতৃত্বকে একটা ব্যাকুল দেখা যায়নি।
আসলে কমলনাথ শুধু গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠই নন, তাদের দুর্দিনের সঙ্গী। ইন্দিরা গান্ধী বলতেন, কমল আমার তৃতীয় সন্তান। মধ্যপ্রদেশে নেত্রীর যে কোনও সফরে গাড়ি থেকে মঞ্চ, ইন্দিরার পাশের আসনটি সংরক্ষিত থাকত কমলনাথের জন্য। বাংলায় প্রয়াত নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও মধ্যপ্রদেশের ওই নেতার মতো সন্তান-স্নেহ করতেন ইন্দিরা। জরুরি অবস্থা এবং ১৯৭৭-এর লোকসভা ভোটে ক্ষমতা হারানো ইন্দিরাকে রাজ্যে রাজ্যে যাঁরা আবার ভেসে উঠতে সাহায্য করেছেন কমলনাথ, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা তাঁদের অন্যতম ছিলেন। কমল একই সঙ্গে ছিলেন ইন্দিরার ছোট পুত্র সঞ্জয়ের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। ইন্দিরার মৃত্যুর পর হওয়া শিখ বিরোধী দাঙ্গাতে মদত দেওয়া অভিযোগ উঠেছিল কমলনাথের বিরুদ্ধেও।
তবে মধ্যপ্রদেশের এই নেতাকে দলে ধরে রাখতে গান্ধী পরিবার এবং কংগ্রেস হাইকমান্ডের ব্যাকুলতার এই সোনালি অতীতই আসল কারণ নয়। বরং কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, যে সময় কমলনাথ দল ছাড়তে চাইছেন তাঁকে না আটকালে পার্টি ছাড়ার হিড়িক পড়ে যাবে।
কমলনাথ এমনীতেই প্রবলভাবে হিন্দুত্ববাদী নেতা। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসকে সেইভাবেই পরিচালিত করেছেন তিনি। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য মোটা টাকা চাঁদা দেন। মন্দির ট্রাস্ট তাঁকেও ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য। কিন্তু মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান কংগ্রেস দলগতভাবে বয়কট করায় কমলনাথ অযোধ্যায় যাননি। মন্দির উদ্বোধনের দিন নির্বাচনী কেন্দ্র ছিন্দওয়ারার বজরংবলী মন্দিরে রামের পূজাপাঠে ব্যস্ত ছিলেন। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থে ওই মন্দির বানিয়েছেন তিনি।
কংগ্রেসের মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্তে সায় ছিল না কমলনাথের। তবে প্রকাশ্যে বিবাদে যাননি। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝতে পারছে, রাম মন্দির উদ্বোধনের পর গোটা দেশে, বিশেষ করে হিন্দি বলয়ে রাম-হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কমলনাথের মতো প্রবীণ নেতা দল ছাড়লে রাজ্যে রাজ্যে তার প্রভাব পড়বে। কারণ, শুধু মধ্যপ্রদেশ নয়, রাম মন্দির ইস্যুতে কমল অনুগামীরা আছেন অন্য রাজ্যেও।
দল ছাড়ার সেই সম্ভাবনা ঠেকাতেই কমলনাথকে দলে ধরে রাখতে মরিয়া কংগ্রেস হাইকমান্ড। মধ্যপ্রদ্রেশের ভোটে ভরাডুবির পর তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাত বছর ওই পদে ছিলেন এই কংগ্রেস নেতা। শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, কংগ্রেস নেতৃত্ব ভরাডুবির দায় পুরোপুরি কমলনাথ ও দিগ্বিজয়ের উপর চাপিয়ে দেয়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হওয়ায় কমলনাথের দিকে আঙুল ওঠে বেশি। দু বছর আগে গোলাম নবি আজাদ দল ছাড়ার আগে শুধু সনিয়া গান্ধী তাঁকে ডেকে কথা বলেছিলেন। আর কোনও নেতা অনুরোধ উপরোধ করেননি।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা ভোটে হারের পর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দিগ্বিজয়, কমলনাথদের মৃদু কথা কাটাকাটিও হয়েছিল। রাজ্যের দুই নেতা বিজেপির ইভিএম কেলেঙ্কারি পরাজয়ের কারণ বলে উল্লেখ করলে রাহুল তাঁদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, আপনারা নিজেদের ব্যর্থতার দায় ইভিএমের উপর চাপাচ্ছেন।
তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব এখন বুঝতে পারছে কমলনাথেরা শুধু মধ্যপ্রদেশেই নেই, রাম হাওয়ায় অনেক রাজ্যেই হাত শিবিরের ওলটপালট অবস্থা। অনেক নেতাই মনে করছেন বিজেপিতে যাওয়ার এটাই মোক্ষম সময়। তাই কমলনাথকে এক খাতিরযত্ন করছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। বার্তা দিতে চাইছে, দল সবাইকে পাশে চায়। বছর এক-দেড় আগে কংগ্রেস হাইকমান্ড ও গান্ধী পরিবাবের মনোভাব ছিল উল্টো। তাদের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিল যারা বিজেপিতে যেতে চান যেতে পারেন। দল কাউকে আটকাবে না। কমলনাথের ক্ষেত্রে ভিন্ন রাস্তায় হাঁটল দল।