
পোখরানে পরমাণু পরীক্ষার পর অটলবিহারী বাজপেয়ি এবং এপিজে আবদুল কালাম। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 May 2024 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬ বছর আগের ঠিক এইদিন। এনডিএ সরকারের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বে হল শক্তি সিরিজের পরমাণু পরীক্ষা। গোটা বিশ্বকে বিশেষত পাকিস্তানকে চমকে দিয়ে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত।
১৯৯৮ সালের ৫ মে এবং ১১ মে ধারাবাহিক পরমাণু পরীক্ষা হল রাজস্থানের মরুভূমি পোখরানে। ইন্দিরা গান্ধীর হাতে যে পরীক্ষার সূচনা তা করে দেখালেন বাজপেয়ি। জাতীয় সুরক্ষা এবং পরিবেশ সচেতনতার পরিচয় দিল দেশ। সেই দিনটি থেকে ১১ মে-কে জাতীয় প্রযুক্তি দিবস বা ন্যাশনাল টেকনোলজি ডে হিসেবে পালন করা হয়।
আজ ভারতের হাতে রয়েছে ৫ হাজার কিমি পাল্লার ভূমি থেকে ছোড়ার মতো অগ্নি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ৩০০০ কিমি পাল্লার কে-৪ ডুবোজাহাজ থেকে ছোড়ার উপযোগী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যা চীন ও পাকিস্তানের চোখরাঙানিকে সহজেই উপেক্ষা করতে পারে।
পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর থেকেই ভারতকে আন্তর্জাতিক শক্তিধর দেশ হিসেবে সমীহ করতে থাকে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও কানাডার মতো দেশগুলিও। ভারত পরমাণু শক্তির পরীক্ষা করল কেন? তার জবাবও দিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ি। বললেন, চীনের জন্য ভারত পরমাণু শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটাল।
পরমাণু পরীক্ষার দুদিন পর ১৩ মে, ১৯৯৮, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে একটি চিঠি লেখেন অটল। তাতে তিনি বলেন, আমরা পরমাণু অস্ত্র শক্তিধর দেশ হিসেবে মাথাচাড়া দিলাম। সীমান্ত ও দেশ সুরক্ষায় এটা প্রয়োজন ছিল। ১৯৬২ সাল থেকে একটি দেশ সশস্ত্র আগ্রাসনের চেষ্টা করে চলেছে। তারই জবাব ছিল সেদিন ভারতের। ৯৮ সালের ১১ মে হল সেইদিন যেদিন ভারত বিশ্বের দরবারে নিজের শক্তির অস্তিত্ব জাহির করে দেখিয়ে দিল আর অনুন্নত দেশের তালিকায় নয়, এবার উন্নত দেশগুলির তালিকা উঠে আসা আর বেশি দূরে নয়।
পরমাণু পরীক্ষার এই সাফল্যেই এইদিনটিকে জাতীয় প্রযুক্তি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশেষত পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যকে স্মরণ করতেই দিনটি পালিত হয়। আর এর পিছনে যে মানুষটির নাম প্রথমেই করতে হয়, তিনি হলেন পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম। ভারতের 'মিসাইল ম্যান' কালাম পরবর্তীতে দেশের রাষ্ট্রপতিও হয়েছিলেন।