এই পরিস্থিতিতে ইউজিসি মনে করছে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজর দেওয়া উচিত। আত্মহত্যা ঠেকানোর পাশাপাশি যাদের কাজ হবে পড়ুয়াদের মানসিক স্থিরতা ফেরানো।

ইউজিসি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 10:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র (Mental health assistance center) চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission) এই মর্মে একটি খসড়া প্রস্তাব দেশের বাছাই করা কয়েকটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পাঠিয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, খসড়া প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সুপারিশ করতে। সেগুলি পাওয়ার পর এই ব্যাপারে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করবে উচ্চশিক্ষার নিয়ামক সংস্থাটি।
দেশে সামগ্রিকভাবে আত্মহত্যার হার ক্রমবর্ধমান। তার মধ্যে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগ জনক। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গিয়েছে আত্মহত্যাকারীর প্রায় ৮ শতাংশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী।
এই পরিস্থিতিতে ইউজিসি মনে করছে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজর দেওয়া উচিত। আত্মহত্যা ঠেকানোর পাশাপাশি যাদের কাজ হবে পড়ুয়াদের মানসিক স্থিরতা ফেরানো।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচশো পড়ুয়া পিছু একজন করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়ক থাকা বাঞ্ছনীয়। তাদের কাজ হবে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের মানসিক সুস্থতা আঁচ করা। এছাড়া এই ব্যাপারে নিয়মিত আলাপ আলোচনার আয়োজন করার কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউজিসি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে কোন পড়ুয়ার মধ্যে মানসিক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেলে তাঁকে সুস্থ করে তোলার কাজটি করতে হবে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। এই ব্যাপারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
ইউজিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে ভারতে দশ শতাংশ নাগরিকের মানসিক সমস্যা আছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২১ থেকে ২৫ বছর বয়স ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি।
ইউজিসির এই উদ্যোগ নিয়ে অবশ্য অনেকেই সহমত নন। তাদের বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ামক সংস্থার উচিত সামগ্রিক সিলেবাস পর্যালোচনা করা। সংস্কার প্রয়োজন পরীক্ষা পদ্ধতির। পড়ুয়ারা কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বা কেন তাদের উপর মানসিক চাপ বাড়ছে সেই কারণ অনুসন্ধান না করে বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। কাউন্সেলিং করে মানসিক সুস্থতা ফেরানো সহজ হবে না যদি না সিলেবাসের বোঝা এবং পরীক্ষার জটিলতা দূর করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্ব শেষে চাকরি পাওয়ার অনিশ্চয়তা পড়ুয়াদের মধ্যে বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছে। কারণ উচ্চশিক্ষার খরচ দিন দিন বাড়ছে। অনেক পরিবারকেই মোটা অংকের সুদে শিক্ষা ঋণ নিতে হচ্ছে ছেলে মেয়ের পড়াশুনোর জন্য। ঋণ শোধের চাপ অনেক পড়ুয়ার মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হওয়ার একটি কারণ।