Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকের

সিসমোগ্রামে কম্পনের তীব্রতা 'মাত্র' চার, তবু কেন দিল্লির ভূমিকম্প এত শক্তিশালী ধাক্কা দিল

সাধারণত ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি মানের কম্পন হিসেবেই ধরা হয়, যা খুব বেশি ক্ষতি করে না। কিন্তু এবার সেটা অনেক বেশি তীব্র মনে হয়েছে। কম্পন অনেক বেশি হয়েছে যেন।

সিসমোগ্রামে কম্পনের তীব্রতা 'মাত্র' চার, তবু কেন দিল্লির ভূমিকম্প এত শক্তিশালী ধাক্কা দিল

দিল্লির ভূমিকম্প।

শেষ আপডেট: 17 February 2025 11:49

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার ভোর ৫.৩৬। দিল্লি-এনসিআর কেঁপে উঠেছে ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্পে। বেশিরভাগ মানুষই সে সময়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎই প্রবল কম্পন ঘুম ভাঙিয়ে কাঁপিয়ে দেয় দিল্লিবাসীকে। কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন, কেউ আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এই ভূমিকম্পে শুধু জিনিসপত্র নয়, মাটির কাঁপুনিও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ঘরবাড়িগুলো রীতিমতো দুলে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এটিই সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রবল ভূমিকম্প।

অথচ, অঙ্কের হিসেবে কিন্তু এই কম্পন সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রবল কম্পন নয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দিল্লিতেই এবং মাটির মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরতায় এটির উৎস। সাধারণত ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্পকে মাঝারি মানের কম্পন হিসেবেই ধরা হয়, যা খুব বেশি ক্ষতি করে না। কিন্তু এবার সেটা অনেক বেশি তীব্র মনে হয়েছে। কম্পন অনেক বেশি হয়েছে যেন।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, 'আমি তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকাই দেখলাম, আয়নাটা কাঁপছে। প্রথমে ভাবলাম হয়তো ভারী কোনও ট্রাক পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝলাম, এটা ভূমিকম্প। সেই সঙ্গে গর্জনের মতো একটা আওয়াজও শোনা গেল।'

ভূমিকম্পের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন এবং পরবর্তী কম্পনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দেন।

দিল্লির এই ভূমিকম্পে কোনও প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে, তবে এত জোর কম্পনে বাসিন্দারা প্রবল আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই বলছেন, 'এত শক্তিশালী ভূমিকম্প আগে কখনও অনুভব করিনি।'

৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প কি খুব শক্তিশালী?

এককথায় উত্তর হলো—না। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প, যা অনুভূত হলেও সাধারণত বড় ক্ষতি করে না। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত ২.৫ মাত্রার কম ভূমিকম্প মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। ২.৫ থেকে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প ছোটখাটো কম্পন সৃষ্টি করে, খুব মৃদু বোঝা যায়। কোনও কাঠামোগত ক্ষতিও হয় না তেমন। ৫.৫ থেকে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প হলে হালকা ক্ষতি হতে পারে এবং বেশ শক্তিশালী অনুভূত হয়।

প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে মাত্র ৪ মাত্রার কম্পনে দিল্লির ভূমিকম্প এত তীব্র মনে হল কেন?

ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও দিল্লির বাসিন্দারা এত প্রবল কম্পন কেন অনুভব করলেন, তার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সিসমোলজিস্টরা। সেগুলি হল:

ভূমিকম্পের উৎস: সাধারণত ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু বা এপিসেন্টার যেখানে থাকে, সেখানে কম্পনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। যেহেতু এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতেই ছিল, তাই কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

মাটির কাছেই উৎস: ভূমিকম্পের উৎসের গভীরতা যত কম হয়, তত বেশি কম্পন অনুভূত হয়। দিল্লির এই ভূমিকম্প মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে হয়েছিল, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলো আরও শক্তিশালী মনে হয়েছে।

ভূমিকম্পের সঙ্গে গর্জন: ভূমিকম্পের সময় অনেকেই গম্ভীর গর্জনের মতো শব্দ শুনেছেন, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয় এদিন। এই শব্দ সাধারণত ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ইঙ্গিত দেয়, যা কিনা বেশি কম্পনের কারণ হতে পারে।

দিল্লির ঘনবসতি: দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে উঁচু উঁচু বিল্ডিংগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে। যখন ভূমিকম্পের তরঙ্গ এসব কাঠামোর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন বা়িগুলি আরও বেশি কাঁপে। বিশেষত, মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং হলে, কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।

দিল্লি ভূমিকম্প-প্রবণ: ভারতের ভূমিকম্পের মানচিত্র অনুযায়ী, দিল্লি 'সিসমিক জোন IV'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। দিল্লিতে ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়শই ঘটে, এমনকি ৭-৮ মাত্রার ভূমিকম্পও বিরল নয়।

প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকম্পের প্রভাব

নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও আশপাশের অঞ্চলগুলোর ভূমিকম্পের কম্পন প্রায়ই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় এসে পড়ে। তবে সাধারণত এসব ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি থেকে অনেক দূরে থাকে, ফলে কম্পনের তীব্রতা কম অনুভূত হয়। মাসখানেক আগেও দিল্লিতে হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার কারণ ছিল তিব্বতের জিনজিয়াং অঞ্চলের ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।

যদিও এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে দিল্লি-এনসিআর একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ভূমিকম্পের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে?

  • ভূমিকম্পের সময় দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসা উচিত।
  • বেরোতে না পারলে কোনও শক্তিশালী আসবাবের নীচে আশ্রয় নেওয়া ভাল।
  • উঁচু বাড়িতে থাকলে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে নামা উচিত।
  • জানালার কাচ বা উঁচু আসবাব থেকে দূরে থাকতে হবে, যাতে গায়ে ভেঙে না পড়ে।
  • ভূমিকম্পের পরপরই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

```