
দিল্লির ভূমিকম্প।
শেষ আপডেট: 17 February 2025 11:49
এককথায় উত্তর হলো—না। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প, যা অনুভূত হলেও সাধারণত বড় ক্ষতি করে না। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত ২.৫ মাত্রার কম ভূমিকম্প মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব হয় না। ২.৫ থেকে ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প ছোটখাটো কম্পন সৃষ্টি করে, খুব মৃদু বোঝা যায়। কোনও কাঠামোগত ক্ষতিও হয় না তেমন। ৫.৫ থেকে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প হলে হালকা ক্ষতি হতে পারে এবং বেশ শক্তিশালী অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও দিল্লির বাসিন্দারা এত প্রবল কম্পন কেন অনুভব করলেন, তার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সিসমোলজিস্টরা। সেগুলি হল:
ভূমিকম্পের উৎস: সাধারণত ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু বা এপিসেন্টার যেখানে থাকে, সেখানে কম্পনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। যেহেতু এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লিতেই ছিল, তাই কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।
মাটির কাছেই উৎস: ভূমিকম্পের উৎসের গভীরতা যত কম হয়, তত বেশি কম্পন অনুভূত হয়। দিল্লির এই ভূমিকম্প মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে হয়েছিল, যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলো আরও শক্তিশালী মনে হয়েছে।
ভূমিকম্পের সঙ্গে গর্জন: ভূমিকম্পের সময় অনেকেই গম্ভীর গর্জনের মতো শব্দ শুনেছেন, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয় এদিন। এই শব্দ সাধারণত ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ইঙ্গিত দেয়, যা কিনা বেশি কম্পনের কারণ হতে পারে।
দিল্লির ঘনবসতি: দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে উঁচু উঁচু বিল্ডিংগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি থাকে। যখন ভূমিকম্পের তরঙ্গ এসব কাঠামোর ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন বা়িগুলি আরও বেশি কাঁপে। বিশেষত, মাল্টিস্টোরিড বিল্ডিং হলে, কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়।
দিল্লি ভূমিকম্প-প্রবণ: ভারতের ভূমিকম্পের মানচিত্র অনুযায়ী, দিল্লি 'সিসমিক জোন IV'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা ভূমিকম্প-প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। দিল্লিতে ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়শই ঘটে, এমনকি ৭-৮ মাত্রার ভূমিকম্পও বিরল নয়।
নেপাল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন ও আশপাশের অঞ্চলগুলোর ভূমিকম্পের কম্পন প্রায়ই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় এসে পড়ে। তবে সাধারণত এসব ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু দিল্লি থেকে অনেক দূরে থাকে, ফলে কম্পনের তীব্রতা কম অনুভূত হয়। মাসখানেক আগেও দিল্লিতে হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার কারণ ছিল তিব্বতের জিনজিয়াং অঞ্চলের ৭.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প।
যদিও এই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে দিল্লি-এনসিআর একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।