
১৫১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে আর জি করে।
শেষ আপডেট: 17 September 2024 14:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর জি কর হাসপাতাল সহ রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যকে দুষল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয় ১৫১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হবে আর জি করে। অন্যান্য হাসপাতালের ক্ষেত্রে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপাররা মিলিতভাবে কাজ করছেন। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আর জি কর হাসপাতালের যে জায়গায় মহিলারা রাতের ডিউটিতে বিশ্রাম নেন সেখানে কেন বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা নেই?
তিনি আরও বলেন, যে মহিলারা সেমিনার হলে বিশ্রাম নিতে যান, তাঁদের অতি অবশ্যই বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এখানে যখন রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব উপস্থিত আছেন, আমাদের বলুন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? আর জি করের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তই হচ্ছেন একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। সেখানে আবার নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা কর্মী নেওয়ার ফলে কী পরিবর্তন ঘটবে। পুলিশ কোথায়?
প্রধান বিচারপতির আরও প্রশ্ন, এই ঘটনায় জড়িত ১৮ থেকে ২৩ বছরে যুবক-যুবতীর নিরাপত্তা। তাঁদের আশঙ্কা এই ঘটনা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। স্বাস্থ্যসচিবের দেওয়া হলফনামায় বলা হয়েছে, ডিউটি রুম সংস্কার করা হয়েছে, শৌচাগার, সিসিটিভি ক্যামেরা বসেছে। তথ্য বলছে, রাজ্যে ২৮টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে, ৯টি রয়েছে কলকাতা শহরে।
এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশ, ৭ থেকে ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে নিরাপত্তা সহ অন্যান্য সুযোগসুবিধার কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। ৭১৭টি সিসিটিভি ছাড়াও অতিরিক্ত ক্যামেরা বসাতে হবে। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবালকে শীর্ষ আদালত বলে, জেলাশাসক, সব হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং সিনিয়র ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে দু সপ্তাহের মধ্যে সিসিটিভি বসাতে হবে।
এ প্রসঙ্গেই প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এক বছরের জন্য ১৫১৪ জন নিরাপত্তা রক্ষী নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র ডাক্তারদের আইনজীবী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেননা মূল অভিযুক্তই একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। যাঁকে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল।
ডাক্তারদের তরফে ইন্দিরা জয়সিং বলেন, তিনটি বিভাগ হাসপাতালের উপর নজরদারি দায়িত্বে থাকে। আমার আবেদন এই বিভাগগুলির উপরই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে হাসপাতালে। কারণ এই লোকগুলো এখনও সেখানে রয়েছে, ঘোরাফেরা করছে, ফলে হাসপাতালে একটি আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের কৌঁসুলি কপিল সিবাল প্রত্যুত্তরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডাক্তারদের। প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, জয়সিং আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। সিবালকে এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলেন চন্দ্রচূড়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা আর নতুন করে পুরনো নির্দেশ বলতে চাই না। আমরা আশা করি কাজে ফেরার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি। এখন সেই নির্দেশ পালনের জন্য ডাক্তাররা কী করেন তা তাঁদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।