ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 8 February 2025 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ১১ বছর ধরে মানুষকে বোকা বানানোর ফল এবার হাতেনাতে পেয়েছে আম আদমি পার্টি। দিল্লির মানুষ নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নে ভরসা রেখেই বিজেপিকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি আসন থেকে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও গোহারা হারতে হয়েছে। যা সাম্প্রতিক অতীতে ভারতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো অঘটন। হেরেছেন কেন্দ্রের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের ছেলে সন্দীপ দীক্ষিত। দুই হেভিওয়েটকেই একেবারে নাকানিচোবানি খাইয়ে ছেড়েছেন দিল্লিরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি সহ-সভাপতি সাহিব সিং বার্মার ছেলে প্রবেশ সিং বার্মা।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর কীভাবে ঘটল ম্যাজিক? ভোটে জেতার পর সেই সত্যই সামনে আনলেন প্রবেশের স্ত্রী স্বাতী সিং বার্মা। তিনি পরিষ্কার জানান, “ দিল্লির মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আম আদমি পার্টির সরকারের উপর একেবারেই আস্থা ছিল না তাঁদের। তাঁরা এমন একটি সরকার চেয়েছিলেন, যারা উন্নয়নমূলক কাজ করে দিল্লির ভোল বদলাতে পারবেন। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের বোকা বানানো হয়েছিল।”
কিন্তু বর্তমানে দিল্লির মানুষ চান নরেন্দ্র মোদীর হাতেই দিল্লির দায়িত্ব থাকুক, সে কারণেই দিল্লির মানুষ তাঁকে সুযোগ দিয়েছেন বলে মত স্বাতীর। কীভাবে দুই হেভিওয়েটকে হারিয়ে ছক্কা হাঁকালেন স্বামী? এদিন সেই প্রসঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিক্রম ভার্মার কন্যা জানান, গত তিন বছর ধরেই ভোটের আগে থেকে স্বামীর পাশে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দিল্লির মহিলাদের সমর্থন পেয়েছিলেন।
স্বাতী আরও জানিয়েছেন, "যখন আমরা দলের শীর্ষ নেতাদের থেকে নয়াদিল্লিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলাম তখন প্রচারে নামতেই বুঝতে পারি মানুষ পরিবর্তন চান। সে কারণেই প্রথম দিন থেকেই আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে আমরা আসনটি আমরাই জিতছি। যদিও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা যতই আত্মবিশ্বাসী থাকুন না কেন, অন্য কেউ এই আসনে জিততে পারেন না বলে মনে করিয়ে দেন প্রবেশের স্ত্রী।
তবে নিজের স্বামীর তিনটি গুণের কথা মনে করিয়ে স্বাতী বলেন, অন্যান্য রাজনীতিবিদদের থেকে তাঁর স্বামী তিনটি কারণে এমন সাফল্য পেয়েছেন। তার মধ্যে যেমন রয়েছে, কঠোর পরিশ্রম করার ক্ষমতা, দৃঢ় মনোভাব এবং দুর্নীতির সঙ্গে কোনওরকম আপোষ না করা। সে কারণেই এবারের দিল্লি জয় তাঁর কাছে বাড়তি দায়িত্ব।
নয়াদিল্লি আসন থেকে কেজরিওয়ালকে ৪,০৪৯ ভোটে হারিয়েছেন প্রবেশ। অন্যদিকে হেভিওয়েট সন্দীপ দীক্ষিত পেয়েছেন মেরেকেটে হাজার চারেক ভোট। স্বাভাবিকভাবে দু’জনকে ধরাশায়ী করার পর দিল্লির মসনদে প্রবেশ বেশকিছুটা পা বাড়িয়ে রেখেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে সে প্রসঙ্গ উড়িয়ে স্বাতী সাফ জানান, তাঁর স্বামী নয়া দিল্লির উন্নয়নের জন্য একজন নবনির্বাচিত বিধায়কের মতো কাজ করবেন।