
জে পি নাড্ডার হাতে গিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব।
শেষ আপডেট: 11 June 2024 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয় দফায় শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের মন্ত্রীরা। দশ বছর পরে আবার ফিরেছে জোট সরকারের যুগ। যতই 'মোদী কি গ্যারান্টি' বলে প্রচার করুক বিজেপি, আপাতত শরিকদের তুষ্ট করেই পাঁচ বছর পেরোতে হবে মোদীকে। ফলে পুরনো মন্ত্রীদের বেশিরভাগকেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকে রেখে দিলেও শরিকদের দিকে চেয়ে নতুন মুখ আনতে হয়েছে বিজেপিকে। দলের ভেতরেও কিছু রদবদল ঘটেছে। যার মধ্যে নিঃসন্দেহে সামনে থাকবে বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে মন্ত্রিত্বে নিয়ে আসা।
বিজেপির কড়া নিয়ম, মন্ত্রিত্ব আর দলীয় সভাপতি, দুই দায়িত্বে একজন থাকবেন না। এর আগে ২০১৪ থেকে টানা ছয় বছর দলের সভাপতি ছিলেন অমিত শাহ। তখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন রাজনাথ সিংহ। ২০১৯ সালে অমিতকে সরকারের 'নাম্বার টু' পদে তুলে আনেন মোদী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান অমিত। রাজনাথ সরে যান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে। কিন্তু সভাপতি পদ নিয়ে টালমাটাল অবস্থা ছিল। প্রথম দিকে অমিতকেই সভাপতি রেখে বিজেপির কার্যকরী সভাপতি পদে নিয়ে আসা হয় জে পি নাড্ডাকে। পরে ২০২০ সালে পূর্ণ সময়ের জন্য দলীয় সভাপতি হ'ন নাড্ডা।
এবার নাড্ডাকেও মোদী মন্ত্রীসভায় জায়গা দেওয়ায় নতুন সভাপতি কে হবেন, সেই নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মত গুরুদায়িত্বের মন্ত্রক পেয়েছেন নাড্ডা। সঙ্গে রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের দায়িত্বও রয়েছে তাঁর ওপর। মঙ্গলবারেই দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন তিনি। এদিকে বিজেপির সামনে অনেকগুলো প্রশ্ন। একে তো লোকসভা ভোটে আশানুরূপ ফল নেই। দল যা 'হাইপ' তৈরি করেছিল, ফলাফলে রীতিমত মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধান বিপুল কমে গিয়েছে। এরপর এই বছরের শেষে হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রে ভোট। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে কার্যত ধরাশায়ী হয়েছে বিজেপি-একনাথ শিন্ডের শিবসেনা জোট। সব চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস। ভাল ফল করেছে উদ্ধবের শিবসেনা ও শরদ পওয়ারের এনসিপি। মানুষ একনাথ ও অজিত পওয়ারের ডিগবাজিকে ভাল চোখে নেননি। এদিকে দলের ফলাফলের দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ। এই অবস্থায় বিজেপি সভাপতিকে কার্যত ত্রিমুখী সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
ইতিমধ্যেই ভোটের কথা মাথায় রেখে ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের শরিক নেতাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন মোদী। হরিয়ানার ভোটের কথা মাথায় রেখে মনোহরলাল খট্টরকেও মন্ত্রী করা হয়েছে। ওদিকে পরের বছর আবার বিহারে বিধানসভা ভোট। নীতিশ এখনই দর কষাকষি করছেন। বিজেপি ভেবেছিল, নীতিশকে সামনে রেখে বিহারে দলের আসন বাড়িয়ে নেবে। কিন্তু সেটা হয়নি। এখন জেডি(ইউ) এই সরকারের অন্যতম বড় শরিক। বিহারের সমীকরণ মাথায় রেখে চিরাগ পাসোয়ান ও জিতনরাম মাঁজিকেও মন্ত্রী করা হয়েছে। যিনিই সভাপতি হবেন, তাঁকে এই জটিল অঙ্কের খেলায় নামতে হবে।
এখনও অবধি সভাপতি কে হবেন, সেই নিয়ে কোনও ইঙ্গিত দেয়নি শাসক দল। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের অন্দরে যা খবর, তাতে শীর্ষ নেতাদের মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে বলা হয়েছে। তবে কানাঘুষো যা শোনা যাচ্ছে, তাতে দৌড়ে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ। কর্ণাটকের এই নেতাকে সভাপতি করে দক্ষিণে আরও ক্ষমতা বাড়াতে পারে বিজেপি। তবে সন্তোষ ব্রাহ্মণ। এবারে বিজেপির ভোট যেখানে অনেকটাই কমেছে ওবিসি ও তফশিলি জাতিদের অঙ্কে, সেখানে ব্রাহ্মণ কাউকে সভাপতি না-ও করতে পারে। দৌড়ে আছেন মহারাষ্ট্রের বিনোদ তাওড়ে। সামনে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই অত্যন্ত প্রভাবশালী মারাঠা নেতাকে সভাপতি করে মোক্ষম চাল দিতে পারে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনশলের কপালও খুলতে পারে। তবে আরও একটি সূত্র বলছে, এবারে কোনও মহিলা নেত্রীকে বেছে নিতে পারে বিজেপি। সেক্ষেত্রে দলের প্রথম মহিলা সভাপতি হিসেবে বড় রকমের বার্তা দেওয়া যাবে জনমানসে।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মন্ত্রী হয়েছেন। ফলে প্রশ্নের মুখে রয়েছে বঙ্গবিজেপিও। যেভাবে ভোটে ভরাডুবি হয়েছে, তাতে সুকান্তের জায়গায় আবার দিলীপ ঘোষ ফিরবেন কিনা, সেই নিয়ে জোর চর্চা চলছে মুরলীধর লেনে। এদিকে ভোটে হেরে দিলীপ একের পর এক তোপ দেগে চলেছেন। দল সেসব ভালোভাবে না-ও নিতে পারে। লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত নেতাকে রাজ্য সভাপতি করাটা কতটা ভাল বার্তা যাবে, সেটাও ভাবতে হবে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। সব মিলিয়েই ক্রমশ প্রশ্ন জমাট বাঁধছে।