
হরপ্রিত সিং ওরফে হ্যাপি পাসিয়া।
শেষ আপডেট: 18 April 2025 11:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাবে ১৪টি গ্রেনেড হামলার চক্রী হরপ্রিত সিং ওরফে হ্যাপি পাসিয়াকে শুক্রবার গ্রেফতার করেছে আমেরিকা। ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হ্যাপি কানাডা থেকে আমেরিকায় অবৈধভাবে ঢুকেছিল। পুলিশ ও এফবিআইয়ের নজর এড়াতে সে বার্নার ফোন ব্যবহার করত।
এফবিআইয়ের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবে জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ। হ্যাপি সিং অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যুক্ত। সে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছিল এবং গা ঢাকা দিয়ে থাকার জন্য বার্নার ফোন ব্যবহার করত। হরপ্রিত সিংকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই এবং ইআরও। পাসিয়া গোড়ার দিকে ছিল গ্যাংস্টার, পরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়।
ভারতের তরফে এনআইএ এবং পাঞ্জাব পুলিশ তার বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার মামলা করে। আমেরিকাকে জানানো হয় যে, সে কানাডা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মগোপন করে আছে। অপরাধে অভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও বেরয়। গ্রেফতারির পর ইন্টারপোলের সাহায্য নিয়ে পাসিয়াকে ভারতে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু হবে।
হরপ্রিত সিং ওরফে হ্যাপি পাসিয়া কে?
পাঞ্জাবের অমৃতসরের আজনালা তহসিলে বাসিন্দা হ্যাপি। ১ অক্টোবর, ২০২৪ সালে একটি মামলায় তাকে ফেরার আসামি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এদেশে তার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলায় খোঁজা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ, মাদক আইন ও অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসিয়া পাকিস্তানি গ্যাংস্টার থেকে জঙ্গি হওয়া হরবিন্দর সিং সাঁধু ওরফে রিন্ডার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তার সঙ্গে পাক চর সংস্থা আইএসআই এবং নিষিদ্ধি জঙ্গি সংগঠন বব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনালের যোগাযোগ ছিল। তাদের হয়েও বেশ কয়েকটি অপারেশন চালিয়েছিল পাসিয়া। এনআইএ তার মাথার দাম ধার্য করেছিল ৫ লক্ষ টাকা।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চণ্ডীগড়ে এক অবসরপ্রাপ্ত পাঞ্জাব পুলিশ অফিসারের বাড়িতে গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্ত ছিল পাসিয়া। হরপ্রিত এবং রিন্ডা মিলে এই গ্রেনেড হামলার লজিস্টিক সহযোগিতা, তহবিল এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
বার্নার ফোন কী?
বার্নার ফোন মূলত আত্মগোপনের কাজে ব্যবহৃত অত্যন্ত পুরনো ধাঁচের ফোন। আমেরিকা সহ সারা বিশ্বের আত্মগোপনকারী গুপ্তচর, জঙ্গি, পাচারকারীরা এই ধরনের ফোন ব্যবহার করে থাকে। এই ফোনের কয়েকটি বিশেষত্ব হল, এতে ডিটাচেবল ব্যাটারি থাকে। ফলে ব্যাটারি খুলে নিলে এই ফোনকে ট্র্যাক করা যায় না। এছাড়াও সুইচ বন্ধ করে রাখলেও লোকেশন বোঝা যায় না। ব্যক্তিগত কোনও তথ্যও এতে সংগৃহীত থাকে না।
বার্নার ফোন নামকরণের নেপথ্যেও রয়েছে একটি ছোট্ট কাহিনি। ২০০০ সালের এইচবিও সিরিজ দ্য ওয়্যার-এ এই বার্নার শব্দ এবং বার্নার ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সিরিজের চরিত্ররা বার্নার ফোন ব্যবহার করেছিল, যাতে পুলিশের হাতে ধরা না পড়ে। তবে এর মানে এই নয় যে, কেবল জঙ্গি বা গুপ্তচররাই এই ফোন ব্যবহার করে। যাঁরা ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে চান, তাঁরাও ব্যবহার করতে পারেন এই ফোন।
বার্নার ফোন হল ব্যবহারের পরে নষ্ট করে ফেলার মতো ফোন। একে নষ্ট করা যায়, আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেওয়া যায় তাতেও কেউ মূল মালিকের হদিশ পাবে না। সে কারণে প্রধানত অপরাধীরাই এ জাতীয় ফোন কেনে। আসলে সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই ফোন কেনা হয়। যাঁরা দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে নারাজ তাঁরাই এই ফোন কিনে থাকেন।