
চিন্ময় দেওরে ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 April 2025 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাগে আনতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও ঘাম ছুটে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের সর্বশক্তিমান রাষ্ট্রনেতা ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছেন স্নাতকস্তরে পাঠরত ভারতীয় এক পড়ুয়া। ২১ বছরের চিন্ময় দেওরে আমেরিকা থেকে বেআইনিভাবে বিতাড়নের আশঙ্কায় আদালতে চ্যালেঞ্জ ঠুকেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
ওয়েন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পড়ুয়া চিন্ময়ের সঙ্গে আরও তিনজন মামলা করেছেন। তার মধ্যে দুজন হলেন চিনের এবং একজন নেপালের যোগেশ জোশি। চিন্ময় ২০২১ সালের অগস্ট থেকে সেদেশে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতক পড়ছেন। মিশিগান শহরের এই ছাত্ররা অবৈধ প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়নের চেষ্টা করছে বলে আদালতে আর্জি জানিয়ে মামলা ঠুকেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আমেরিকায় বসবাসের ভিসা বেআইনিভাবে বাতিল করে দিয়েছে প্রশাসন। স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফর্মেশন সিস্টেমের অধীনে তাঁদের পড়ুয়া ভিসার মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের তুঘলকি নীতির ফলে আচমকা বিপদে পড়া এই ছাত্রদের হয়ে মামলা লড়ছে মিশিগানের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন।
সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ এবং নোটিস ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে এফ-ওয়ান পড়ুয়া অভিবাসী ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের উপর এই মুহূর্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে আর্জি জানানো হয়।
চিন্ময় দেওরে কে?
চিন্ময় দেওরে মার্কিন অভিবাসী ভারতীয় ছাত্র। তিনি প্রথম আমেরিকায় ঢোকেন ২০০৪ সালে। এইচ-ফোর বা ডিপেন্ডেন্ট ভিসা সহ তাঁর পরিবার মিশিগানে আসে। ২০০৮ সালে চিন্ময় ও তাঁর পরিবার আমেরিকা ছেড়ে দেন। এরপর ২০১৪ সালে চিন্ময় ফের তাঁর পরিবারের সঙ্গে এইচ-ফোর ভিসা নিয়েই আমেরিকায় ফিরে আসেন।
আদালতের আর্জিতে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, চিন্ময় ২০২২ সালের মে মাসে আইনমাফিক প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করেন। কারণ ডিপেন্ডেন্ট ভিসার একটি মেয়াদ আছে। সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে এই ভিসা আর প্রযোজ্য থাকে না। তাই তিনি সরকারের কাছে এফ-ওয়ান ভিসা অর্থাৎ পড়ুয়ার মর্যাদাদানের আবেদন জানান। তাঁর আশা ছিল চলতি বছরের মে মাসের তাঁর শিক্ষা শেষ হয়ে যাবে এবং তিনি স্নাতক হয়ে যাবেন।
দেওরের বিরুদ্ধে আমেরিকায় কোনও মামলা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ বা তিনি দণ্ড পেয়েছেন এমন কোনও তথ্যও নেই পুলিশের খাতায়। নির্দিষ্ট গতি বাইরে গাড়ি চালানো কিংবা ভুল পার্কিং করার মতো ভুল ছাড়া, যা সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা করে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে নাগরিক আইন ভঙ্গ, মোটর ভেহিকেল আইন ভ্ঙ্গ অথবা অভিবাসী আইন ভঙ্গের অপরাধ নেই। কোনও রাজনৈতিক ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও প্রতিবাদসভাতেও তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি।