
হাথরাসের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ভোলেবাবা।
শেষ আপডেট: 3 July 2024 11:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারায়ণ সাকার হরি ওরফে সাকারবিশ্ব হরি ওরফে ভোলেবাবা। হাথরাসে পদপৃষ্ট হয়ে গণমৃত্যু মিছিলের মূল 'ধর্মগুরু'। একেবারে আসল নাম সুরজপাল। কাসগঞ্জের বাহাদুর নগরে পৈতৃক ভিটে। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে চাষবাস করতেন। সেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল। তারপর পুরোটাই ললাটলিখন। ধর্মের ধুয়ো ও জ্ঞান দিয়ে লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুগামী তৈরির নায়ক। কে এই ভোলেবাবা?
চাষির ছেলে হিসেবে এটাহ জেলার পাটিয়ালির বাহাদুর নগরী গ্রামে বাবার সঙ্গে হাল ধরে খেতখামারে কাজ করা দিয়ে ছেলেবেলা কাটে ভোলেবাবার। তখন নাম ছিল সুরজপাল সিং। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে ১৮ বছর কাজ করেন। শেষে ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে হেড কনস্টেবলেও উন্নীত হয়েছিলেন। তাঁর ভক্তরা বলেন, ভোলেবাবা তাঁদের বলতেন তিনি আইবি বা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে কাজ করতেন।
১৯৯০ সালে আচমকা স্বেচ্ছা অবসর নেন ভোলেবাবা। তখনই নাম বদল করে ফেলেন। নাম নেন নারায়ণ সাকার হরি। স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু সেই থেকে অল্প অল্প করে শুরু করেন সৎসঙ্গ। সুরজপালরা তিন ভাই। তার মধ্যে একজনের আকস্মিক মৃত্যু হয়। এরপর ওই ভাইয়ের নামে বাহাদুর নগরে তিনি একটি ট্রাস্ট খোলেন।
মানব মঙ্গল মিলন সদ্ভাবনা সমাগম নামে তিনি সৎসঙ্গ আয়োজন করেন। নিজেকে হরি বা কৃষ্ণের অনুগামী বলে প্রচার করতেন স্যুটেড-বুটেড, টাই পরা দস্তুরমতো ইংরেজি পোশাক পরা এই ধর্মগুরু। ভক্তদের 'মহাপুরুষ'এর বোঝাতেন তিনি সাকার হরি হলেন এই ব্রহ্মাণ্ডের একমাত্র কর্তা।
পুলিশ বিভাগ থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে নারায়ণ হরি সাদা স্যুট এবং নীল টাই পরা শুরু করলেন। সৎসঙ্গের ধর্মসভাতেও তিনি পোশাকেই ছিলেন। আদতে তফসিলি জাতির এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর এই পোশাকের মাধ্যমে দেহাতি মানুষের মধ্যে সাহেবি কেতা দেখানোর চেষ্টা করতেন। সৎসঙ্গ চলাকালীন তাঁর স্ত্রীকেও সিংহাসনের মতো একটি বিরাট আসনে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যেত। যিনি গুরুমা বা মাতাশ্রী বলে পরিচিত ছিলেন।
এই দম্পতি নিঃসন্তান। বাহাদুর নগরে একটি বিশাল আশ্রমও খুলেছিলেন। ঝড়ের মতো তাঁর জনপ্রিয়তা দেহাতি গরিবগুর্বো ও পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে বাড়তে থাকে। এদিন পর্যন্ত রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরেও তাঁর অনুগামী ভক্তের সংখ্যা কয়েক লক্ষ। নিজের নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক বাউন্সার রেখেছিলেন। যারা তাঁর সৎসঙ্গ চলাকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকত।
ভোলেবাবাকে নিয়ে প্রথম বিতর্ক শুরু হয় ২০২২ সালে করোনাকালে। উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদে তিনি একটি সৎসঙ্গের আয়োজন করেন। যেখানে পুলিশ প্রশাসন মাত্র ৫০ জনের উপস্থিতির অনুমোদন দেয়। কিন্তু, করোনা বিধি ভেঙে তিনি ৫০ হাজার ভক্তের জমায়েত করে শক্তি প্রদর্শন করেন।
এইভাবে তাঁর উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে একেবার ভোজবাজির মতো। মঙ্গলবারও সৎসঙ্গ যখন প্রায় শেষের দিকে, তখন উত্তরপ্রদেশের এই বিরিঞ্চিবাবার পদধূলি নেওয়ার জন্য ভক্তরা আছড়ে পড়লে হুড়োহুড়ি বেঁধে যায়। তাতেই পদপিষ্ট হয়ে গণমৃত্যু হয় বহু মানুষের। আর এখন ভোজবাজির উত্থানের মতোই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অর্থাৎ পুলিশের দৃষ্টি থেকে উধাও হয়ে রয়েছেন ভোলেবাবা।