
শেষ আপডেট: 19 January 2024 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার সকালে অবশেষে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের সাংসদ হিসাবে যে সরকারি বাংলো পেয়েছিলেন তিনি, এদিন তা খালি করে দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র।
তবে বাংলো খালি করার সময়ে সেখানে ছিলেন না মহুয়া। সকাল ১০টা নাগাদ ওই বাংলো খালি করার সময়ে সেখানে ছিলেন তাঁর আইনজীবী। তিনি এও জানান, মহুয়ার দিল্লিতে কোনও বাড়ি নেই। তাই মাস চারেকের জন্য ভাড়া দিয়ে রেখে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা শুনতে রাজি হয়নি।
তাঁকে সংসদের এস্টেট কমিটি থেকে উচ্ছেদ নোটিস ধরানোর পর এই বাংলোটি রেখে দেওয়ার জন্য দিল্লি হাইকোর্টে সম্প্রতি মামলা করেছিলেন মহুয়া। কিন্তু তার পর তাঁর কী মনে হয়েছে কে জানে, এদিন ছেড়ে দিলেন।
তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, মহুয়া মৈত্র এখন গুরগাঁওয়ের মেদান্তা মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেন মহুয়া সেখানে ভর্তি রয়েছেন, তা অবশ্য তিনি বিশদে জানাননি।
প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল মহুয়াকে। সেই কারণেই তাঁকে সাংসদ হিসাবে পাওয়া বাংলো ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মহুয়া এক কথায় তা ছাড়তে রাজি না হওয়াতেই জট বাড়ে।
#WATCH | Expelled parliamentarian Mahua Moitra (TMC) vacates her Government allotted accommodation in New Delhi pic.twitter.com/1S0qFC6qoQ
— ANI (@ANI) January 19, 2024
অনেকের মতে, যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন লোকসভা ভোটে মহুয়াকে ফের কৃষ্ণনগরে প্রার্থী করা হবে। তাঁর হয়তো আশা রয়েছে ফের তিনি জিতে যাবেন। পুনরায় সাংসদ হবেন। মাঝে চার মাসের জন্য তাই আর বাংলো ছাড়তে চাইছিলেন না।
অতীতে দেখা গিয়েছে, এভাবে সাংসদরা সংসদের সদস্যপদ চলে যাওয়ার পরেও কিছুদিন সেই বাংলোয় থেকে যাচ্ছেন। বিজেপির অনেক সাংসদ অতীতে তা করেছেন। কিন্তু এখন বিরোধীদের অভিযোগ, মোদী সরকার এ ব্যাপারে যেন প্রতিহিংসা নিয়ে মাঠে নেমেছে।
মহুয়া প্রথমবারের সাংসদ ছিলেন। সুতরাং তাঁর এমনিতেই বাংলো পাওয়ার কথা ছিল না। তিনি যে বাংলোটি পেয়েছিলেন তার ঠিকানা হল টেলিগ্রাফ লেন। একদা এই টেলিগ্রাফ লেনের একটি বাংলোয় থাকতেন অধীর চৌধুরীও। সংসদ ভবন থেকে নয়াদিল্লির মান্ডি হাউজের দিকে যে ফিরোজ শাহ রোড গিয়েছে, তার থেকেই বাঁ দিকে ঢুকে গিয়েছে একটু সরু রাস্তা। সেখানে ছোট ছোট কয়েকটি বাংলো রয়েছে। তারই মধ্যে একটি পেয়েছিলেন মহুয়া। তার পর অবশ্য সেটি নিজের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছিলেন। শুক্রবার সেটিই খালি করে দিলেন কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদ।