
শেষ আপডেট: 1 November 2023 07:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরল বিস্ফোরণের মূল চক্রী ডমিনিক মার্টিন এখন পুলিশ হেফাজতে। তাকে জেরা করেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। ডমিনিকের দাবি, ইন্টারনেট থেকেই বোমা বানানোর কৌশল রপ্ত করেছিল সে। মাত্র তিন হাজার টাকাতেই তিনটি শক্তিশালী আইআইডি বানিয়ে ফেলে। ইলেকট্রিক সার্কিট বিশেষজ্ঞ ডমিনিক গত পাঁচ-ছয় বছর ধরেই কেরলের ‘জেহবা উইটনেসেস’সংগঠনের উপর হামলা চালানোর ছক কষছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
কেরলের কালাসামেরির কনভেনশন সেন্টারে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পর থানায় আত্মসমর্পণ করে বিস্ফোরণের দায় নিয়েছে ডমিনিক মার্টিন। ডমিনিক দাবি করেছেন, প্রার্থনাসভায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ সেই ঘটিয়েছে। পরপর তিনবার বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৮ জনের। পঞ্চাশের বেশি আহত। বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত করছে এনসিজি ও এনআইএ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ডমিনিক এতদিন দুবাইতে থাকছিল। কোচির কাছে গত পাঁচ বছর ধরে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করে মার্টিনের পরিবার। কয়েক বছর ধরে সে দুবাইতে একটি সংস্থায় ফোরম্যান হিসেবে কাজ করছে। সেখানে একাধিক বৈদ্যুতিন যন্ত্রের সার্কিট জোড়ার কাজও শিখেছিল। দু’মাস আগে হঠাৎই সে দেশে ফিরে আসে।
তদন্তকারীদের অনুমান, নাশকতার জন্য দেশে ফিরেছিল সে। তবে আতশবাজির মতো অল্প ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দিয়েই যে ওই আইইডিগুলি বানানো হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা। বাড়িতে বসেই বোমা বানানোর কাজ সেরেছিল ডমিনিক। তারপর সেগুলো রেখে আসে প্রার্থনাসভায়। রিমোর্ট কন্ট্রোল দিয়ে বোমাগুলোকে অপারেট করেছিল সে।
কিন্তু কেন এমন করলেন ডমিনিক? তদন্তকারীদের অফিসারদের ডমিনিক বলেছে, গত ১৬ বছর ধরে জিহোবা’স উইটনেস নামে একটি ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সে যুক্ত ছিল। তার দাবি, দাবি, এই জিহোবারা তরুণ মনে বিরূপ ভাবনা গেঁথে দিচ্ছে। মগজধোলাই করছে। দেশবিরোধী কার্যকলাপ করতে বাধ্য করছেন। তাই সে এই সংগঠন থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। জিহোবাদের ভাবনার বিরোধিতা করেছিল। তাই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে আস।
বিস্ফোরণের পর ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কিন্তু তাও আতঙ্ক কাটছে না সেদিন প্রার্থনাস্থলে হাজির থাকা মানুষজনের। এই বিস্ফোরণকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে ব্যাখ্যা করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। বিস্ফোরণে জখমদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করতে স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ। সব হাসপাতালকে তৎপর থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।