
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 April 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ বিল নিয়ে লোকসভায় জোর চর্চা চলছে। কিন্তু কী আছে এই বিলের নয়া সংশোধনীতে? বর্তমান ওয়াকফ বিলের ৪০ নম্বর ধারা আইন অনুযায়ী, ওয়াকফ বোর্ডের দখল করা সম্পত্তি বা জমিতে কোনরকম সরকারি পর্যালোচনা করা যায় না। পর্যালোচনা ছাড়াই ওয়াকফ বোর্ড জমি দখল করতে পারে। কোনও সম্পত্তি নিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং ওয়াকফ বোর্ডের আইনি বিবাদ চললেও তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না সরকার।
সরকার এই আইনেই মূলত ওয়াকফ অধিকার খর্ব করতে চাইছে। বিতর্কিত কোনও সম্পত্তির মালিকানা আদতে কার, তাও খতিয়ে দেখার আইনি এক্তিয়ার সরকার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। নতুন সংশোধনীতে ওয়াকফ বোর্ডের সেই একচ্ছত্র অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনও সম্পত্তি ওয়াকফ কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে জেলাশাসক বা সমপদমর্যাদার কোনও আধিকারিকের হাতে।
এর পাশাপাশি আপত্তি উঠেছে নতুন বিলে ওয়াকফ বোর্ডে দুই অ-মুসলিম সদস্যের অন্তর্ভুক্তির বন্দোবস্ত নিয়েও। এ ছাড়া রয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির নথিভুক্তিকরণ নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব। পুরনো আইন অনুযায়ী কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ সম্পত্তি ঘোষণা করলে, চিরদিনের জন্য সেটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসাবেই থেকে যেত। নতুন বিল পাশ হলে এবার সেটাকেও চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
কী আছে সংশোধনীতে?
১। ওয়াকফ থেকে ট্রাস্টকে পৃথক করা- মুসলিমদের তৈরি কোনও ট্রাস্ট কোনও আইনে ওয়াকফ বলে বিবেচ্য হবে না। ট্রাস্টের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম হবে।
২। ওয়াকফ সম্পত্তি কাকে বিবেচিত হবে- অন্তত পাঁচ বছর মুসলিম ধর্মান্তপ্রাণ ব্যক্তি ওয়াকফকে জমি ও সম্পত্তি দান করতে পারবেন। ২০১৩ সালের আগে আইনে এই বলবৎ ছিল।
৩। মহিলাদের অধিকার- ওয়াকফ ঘোষণার আগে মহিলাদের উত্তরাধিকার সম্পত্তি দান করে দিতে হবে। এর মধ্যে বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং অনাথ মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৪। সরকারি জমি ও ওয়াকফ সম্পত্তি- জেলাশাসকের ঊর্ধ্বে কোনও অফিসার ওয়াকফ সম্পত্তি বিবাদের তদন্ত করতে পারবেন। ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালকে আরও শক্তিশালী করা।
৫। বার্ষিক অনুদানের পরিমাণ কমানো- ওয়াকফ সংস্থার বাধ্যতামূলক অর্থসাহায্যের পরিমাণ বার্ষিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা।
৬। বার্ষিক অডিট সংস্কার- ওয়াকফ সংস্থা যাদের রোজগার এক লক্ষ টাকার বেশি তাদের রাজ্য নির্দিষ্ট অডিটর কর্তৃক অডিট রিপোর্ট তৈরি করা বাধ্যতামূলক হবে।
৭। প্রযুক্তি ও কেন্দ্রীয় পোর্টাল- ওয়াকফ সম্পত্তি নিরূপণে ও বিবাদ-মীমাংসায় একটি কেন্দ্রীয় পোর্টাল গঠন করা হবে। এই পোর্টালে সম্পত্তির একটি অটোমেটেড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গঠন করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
৮। দুর্নীতিমুক্ত ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট- মুতাওয়ালিদের সম্পত্তির পরিমাণ ৬ মাসের মধ্যে পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।
কেন ওয়াকফ সংশোধনী?
সরকারের যুক্তি, বর্তমানে যে আইন রয়েছে, তাতে ওয়াকফের দখল করা জমি বা সম্পত্তিতে কোনও ভাবেই পর্যালোচনা করার সুযোগ থাকে না। কারও আপত্তি সত্ত্বেও জমি বা সম্পত্তি দখল করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। বিজেপির দাবি, ওয়াকফ সম্পত্তির সমস্ত সুবিধা ভোগ করছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মুসলিমরা। নতুন আইন কার্যকর হলে সাধারণ মুসলিমরা উপকৃত হবেন।