
ভারতে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা
শেষ আপডেট: 1 July 2024 15:40
সোমবার, ১ জুলাই থেকে ভারতে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে অপরাধ আইন। ব্রিটিশ সরকারের সময় থেকে চালু ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি’র বদলে চালু হয়েছে ভারতীয় ন্যায়সংহিতা (বিএনএস)। ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসি’র নতুন নাম হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং এভিডেন্স অ্যাক্টের জায়গায় চালু হয়েছে ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)। গত ডিসেম্বরে প্রায় বিরোধীশূন্য সংসদে একপ্রকার আলোচনা ছাড়াই পাশ করানো হয়েছিল তিনটি বিল। এনসিপি নেতা প্রবীণ শরদ পাওয়ার সোমবার দাবি করেছেন, আইন তিনটির প্রয়োগ আপাতত স্থগিত করা হোক। তাঁর বক্তব্য, বিল তিনটি পাশ করানোর সময় শতাধিক সাংসদ সাসপেন্ড ছিলেন।
দেশের নানা প্রান্ত থেকেই আইন তিনটি সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসছে। কিন্তু ভারত সরকার গত সপ্তাহে সংসদে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় তারা সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছে না। ফলে সোমবার থেকে বিভিন্ন অপরাধের ধারা-উপধারা আমূল বদলে গিয়েছে।
যেমন প্রতারণার অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি আইনের ৪২০ ধারাটি প্রয়োগ করা হত। শুধু থানা-আদালতই নয়, কাউকে প্রতারক বলে গাল পাড়তেও ৪২০ বলা হত। নতুন আইনে তা বদলে হয়েছে ৩১৮। মোদ্দা কথা ৪২০ বললে আর গাল পাড়ার অভিযোগ তোলা যাবে না। ভারতীয় দণ্ডবিধির এই ধারাটিই আম আদমির মুখেও আখছার শোনা যেত। সিনেমা, নাটক, সাহিত্যে অসংখ্য উল্লেখ আছে এই ধারার। ১৯৫৫ সালে ঝড় তুলেছিল রাজকাপুরের সিনেমা শ্রী-৪২০। ১৯৯৭ সালে রিলিজ হয় কমল হাসানের ছবি চাচি ৪২০। বহু ব্যবহারে অন্য মাত্রা পেয়ে যায় ৪২০, অর্থাৎ ফোর টুয়েন্টি বা চারশো বিশ।
আরও অনেক অপরাধের বিচারের ধারা নয়া আইনে বদলে গিয়েছে। যেমন ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে খুনের মামলার বিচার হল ৩০২ নম্বর ধারায়। এখন সেই ধারা বদলে হয়েছে ১০৩। খুনের চেষ্টা, অনিচ্ছাকৃত খুন, অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার ধারাগুলি ছিল যথাক্রমে ৩০৭, ৩০৪ এবং ৩০৪-বি। সেগুলি এখন বদলে হয়েছে, ১০৯, ১০৫ এবং ৮০।
অন্যদিকে, চুরির অভিযোগের বিচার হত ৩৭৯ নম্বর ধারায়। এখন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারার বিচার হবে। মহিলাদের শ্লীলতাহানী-সহ যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৫৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হত। ওই একই অপরাধের বিচার হবে নতুন আইনের ৭৬ নম্বর ধারায়। যেমন নতুন আইনের ৬৪ নম্বর ধারায় বিচার হবে ধর্ষণের অভিযোগের। আগের আইনে ৩৭৫ এবং ৩৭৬ নম্বর ধারায় এই অপরাধের বিচার হয়। ৩৭৬ নম্বর ধারাটি প্রয়োগ করা গত একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে।
ফৌজদারী দণ্ডবিধির বহু আলোচিত একটি ধারা ছিল ৪৯৮-এ। এই ধারায় গার্হস্থ হিংসার ঘটনার বিচার হত। নতুন আইনে ৮৫ নম্বর ধারায় ওই জাতীয় অপরাধের বিচারের কথা বলা হয়েছে।
ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের হবে ৩১০ নম্বর ধারায়। এতদিন ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৯৫ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হত।
আদালতে মানহানীর মামলা লেগেই থাকে। যত দিন যাচ্ছে রাজনীতিকদের তরফে এই ধরনের মামলার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। মানহানির মামলাগুলির এখন বিচার হবে নতুন দণ্ড সংহিতার ৩৫৬ নম্বর ধারায়। আগের আইনে ৪৯৯ এবং ৫০০ নম্বর ধারায় বিচার হত।
দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মামলায় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২১ নম্বর ধারাটি প্রয়োগ করা হত। ওই একই অপরাধের বিচার হবে ১৪৭ নম্বর ধারায়।
নতুন আইনে অনেক অপরাধকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন যে কোনও বোমা বিস্ফোরণকেই জঙ্গি কার্যকলাপ ধরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইনে বিচার করা হবে। কোনও বিদেশির উপর হামলার ঘটনাকেও জঙ্গি কার্যকলাপ বলে ধরা হবে। এছাড়া, ভারতে তো বটেই, দেশের বাইরেও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা হলে জঙ্গি আইনে মামলা করা হতে পারে।