
শেষ আপডেট: 14 December 2023 09:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য ছত্তীসগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে নতুন মুখ এনেছে বিজেপি। রাজস্থানে ভজনলাল শর্মা, মধ্যপ্রদেশে মোহন যাদব এবং ছত্তীসগড়ে বিষ্ণদেও সাই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের নাম ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের শিবরাজ সিং চৌহান, ছত্তীসগড়ের রমন সিং এবং রাজস্থানে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াদের দলে ভবিষ্যৎ কী?
প্রবীণ তিন নেতার মধ্যে চৌহান ইতিমধ্যে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার আভাস দেওয়ায়। চারবারের সফল মুখ্যমন্ত্রী এবং এবার দলকে জিতিয়ে আনার অন্যতম কারিগর চৌহান নতুন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব শপথ নেওয়ার ঘণ্টা চারেক আগে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিদায়! পদের জন্য আমি কাউকে অনুরোধ করিনি, করবও না। তার চাইতে আমার মরণ ভাল।’ আরও বলেন, ‘আমি দিল্লি যাব না।’ শিবরাজের এই কথার অর্থ তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গা ভাসাতে চান না। রাজনীতির বাকি জীবন মধ্যপ্রদেশেই কাটাতে চান।
অন্যদিকে, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা মুখ্যমন্ত্রী পদে নতুন মুখ আনার যে ব্যাখ্যা হাজির করেছেন তাতে স্পষ্ট, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা চান না শিবরাজ, বসুন্ধরা, রমন সিং’রা আর রাজ্য-রাজনীতিতে নাক গলান। নাড্ডা একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘তিন নেতাকেই বুঝিয়ে বলা হয়েছে, দল নতুন পথে এগোতে চায়। নতুনদের তুলে আনা দলের লক্ষ্য।’ সেই সঙ্গে নাড্ডা যোগ করেন, ‘তাঁর অর্থ এই নয় যে প্রবীণদের দায়িত্ব শেষ।’
বিজেপি সভাপতির কথায়, ‘আমাদের দলে একজন সাধারণ কর্মীকেও কিছু দায়িত্ব দেওয়া থাকে। বিজেপি এইভাবেই চলে।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিজেপি সভাপতি জানিয়েছেন, ‘তিন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদে নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির সময়ই নেওয়া হয়েছিল। সেই মতো প্রার্থী বাছাই করা হয়।’ তাঁর কথায়, ‘দল ক্ষমতায় আসতে না পারলে কে বিরোধী দলনেতা হবেন তাও ভোটের আগেই ঠিক করা ছিল।’
নাড্ডা জানান, বিজেপিতে সব নেতা কর্মীর শুরু থেকে সর্বশেষ অবদান বিচার-বিশ্লেষণ করে তবে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নাম বিবেচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে যে তিনজনকে বাছা হয়েছে, তাঁদের দিকে অনেক দিন ধরেই দলের নজর ছিল।
লক্ষ্যণীয় হল, শিবরাজ, বসুন্ধরাদের নিয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব দিলেও এই নেতাদের ভবিষ্যতে দলে কোনও ভূমিকায় দেখা যাবে কিনা তা স্পষ্ট করেননি বিজেপি সভাপতি। বলেছেন, ‘প্রত্যেককেই তাঁর যোগ্যতা এবং দলের প্রতি অবদান বিবেচনা করে দায়িত্ব দেওয়া হবে।’