
গৌতম আদানি।
শেষ আপডেট: 21 November 2024 12:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে মার্কিন শর্ট সেলিং সংস্থা হিন্ডেনবার্গের এক রিপোর্টকে কেন্দ্র করে আন্দোলিত হয়ে উঠেছিল গোটা দেশ। কারণ, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছিল যে বিপুল পরিমাণ বেআইনি আর্থিক লেনদেন করেছে গৌতম আদানির সংস্থা (Gautam Adani Group)। এবার খোদ গৌতম আদানিকেই ঘুষ কাণ্ডে অভিযুক্ত বলে ঘোষণা করল মার্কিন আদালত (Adani News)। গৌতম আদানির ভাইপো সাগর আদানি এবং সংস্থার বোর্ডের আরও ৬ জন অধিকর্তা ভারতের সরকারি অফিসারদের ২০২৯ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছে। যাতে তারা রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার সঙ্গে সৌর বিদ্যুতের চুক্তি করতে পারে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই ঘুষ দেওয়া হয়েছে।
উৎকোচ বা ঘুষ দেওয়ার ব্যাপার নিয়ে মার্কিন আদালত বরাবরই স্পর্শকাতর। কারণ এর অর্থ হল উপভোক্তা, বিনিয়োগকারী বা সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অসাধু উপায়ে কাজ হাসিল করা। মার্কিন আদালতের বক্তব্য, ঘুষ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের চুক্তি হাসিলের বিষয়টি মার্কিন বিনিয়োগকারী ও ব্যাঙ্কের কাছে গোপন রেখেছিল আদানি গোষ্ঠী। তারা ভেবেছিল এই চুক্তি থেকে ২ বিলিয়ন ডলার তথা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করবে।
প্রশ্ন হল, ভারতের সরকারি কর্তাদের ঘুষ দেওয়া হলে মার্কিন আদালত কীভাবে তা বিচার করতে পারে? আমেরিকার আদালত এই কারণেই তা করতে পারে যে আদানি গোষ্ঠীতে মার্কিন বিনিয়োগকারীরাও টাকা ঢেলেছে।
আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঠিক যে সময়ে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই সময়ে এই সংস্থা ভারতেও বিতর্কের মধ্যে ছিল। কারণ, ততদিনে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আদানির ভারতের ব্যবসা থেকে টাকা তুলে বিদেশে ভুয়ো কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পর সেই টাকা আবার আদানি গোষ্ঠীতে বিদেশি বিনিয়োগ হিসাবে দেখানো হয়েছে। তার মাধ্যমে আদানির শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে। হিন্ডেনবার্গের ওই রিপোর্টের পর আদানির শেয়ারের দামে ধস নেমেছিল।
এর বিষয়টা আরও জটিল। আদানি এনার্জি কোম্পানির চেয়ারম্যান হলেন গৌতম আদানি। তাঁর ভাইপো সাগর আদানি হলেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর। সেই কারণে সৌর বিদ্যুত প্রকল্পের জন্য ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের অভিযুক্ত বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন আদালত।
অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন অ্যাজিওর পাওয়ারের সিইও রঞ্জিত গুপ্ত এবং সেই সংস্থার পরামর্শদাতা রূপেশ আগরওয়াল। তারা মার্কিন ইস্যুয়ার হিসাবে কাজ করেছিলেন। মার্কিন আদালতের অভিযোগ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়াকে ১২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার চুক্তি সম্পন্ন করতেই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। অথচ দেখা যায়, ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারতে সৌর বিদ্যুৎ বিক্রি করার জন্য কোনও ক্রেতাই পায়নি। কোনও ক্রেতা ছাড়া সেই চুক্তি এগোবে কীভাবে? অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি ক্রেতা ঠিক না করে যেমন ঝুঁকি নিয়ে চুক্তি করেছে, তেমনই আদানি গোষ্ঠীও ঝুঁকি নিয়ে চুক্তি করেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্খাটি যাতে রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলিকে সৌর বিদ্যুৎ কিনতে রাজি করিয়ে ফেলতে পারে সেই কারণে সোলার এনার্জি কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার কর্তাদের মোটা টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এও অভিযোগ, অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য সরকারি সরবরাহ সংস্থার কর্তারাও এর সঙ্গে জড়িত।
মার্কিন আদালত জানিয়েছে, আদানি গোষ্ঠী ও মার্কিন ইস্যুয়ার (অ্যাজিওর পাওয়ারের সিইও) ভাগাভাগি করে ঘুষের টাকা দিয়েছে। মার্কিন অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য, ষড়যন্ত্রকারীরা নানা কোড নেম ব্যবহার করতেন। এনক্রিপ্টেড ল্যাঙ্গুয়েজে মেসেজের আদানপ্রদান হত। যেমন গৌতম আদানিকে বলা হত, দ্য বিগ ম্যান বা নিউমারো উনো।
কীভাবে ঘুষের টাকা দেওয়া হয়েছিল, তাও জানা গিয়েছে বলে দাবি। অভিযোগ হল, কখনও প্রকল্পের অংশীদার করে কখনও পরামর্শদাতার ফি হিসাবে দেখিয়ে ঘুষ দেওয়া হয়েছে।
আদানির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে ফের ঝড় তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সংসদের অধিবেশন আসন্ন। এবার যেহেতু সরাসরি সরকারি অফিসারদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাই যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠন করে তদন্তের দাবি জানাতে পারেন বিরোধীরা।