
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 25 November 2024 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনার একনাথ শিন্ডেকে সরিয়ে বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ হতে পারেন রাজ্যের পরবর্তী কর্ণধার, ভোটের আগে থেকেই তা নিয়ে জল্পনা চলছে। নির্বাচনে বিজেপি অভাবনীয় ভাল ফল করায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে। তবে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি এবার নিজেদের দখলে নেবে কি না সে ব্যাপারে শেষ কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ভোটের প্রচারেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ফড়ণবিশের নাম ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই ব্যাপারে রা কাড়েননি। ভোটের ফল প্রকাশের পরও এই ব্যাপারে কোনও আভাস দেননি তাঁরা। যদিও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ফড়ণবিশকে মুখ্যমন্ত্রী করতে মরিয়া। তাঁরা পাশে পেয়ে গিয়েছে মহায়্যুতির আর এক শরিক অজিত পাওয়ারের এনসিপি-কে।
আরএসএস ঘনিষ্ঠ ফড়ণবিশকে ফের মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে আগ্রহী সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্বও। লোকসভা ভোটে নিষ্ক্রিয় আরএসএস বিধানসভার ভোটে সরাসরি ময়দানে নেমেছিল। নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরের কর্তাদের মতে, বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী না হলে হিন্দুত্ববাদী ভোটাররা হতাশ হয়ে পড়বেন।
সোমবার বিজেপি, শিবসেনা এবং এনসিপি তাদের বিধায়ক দলের বৈঠক ডেকেছে। সেখানে যথাক্রমে ফড়ণবিশ, শিন্ডে এবং অজিত পাওয়ারকে পরিষদীয় নেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন ঠিক হতে পারে মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে।
এদিকে, একাধিক সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে নারাজ শিন্ডে। তাঁর যুক্তি, ভোটের সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। মানুষ তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর আস্থা রেখেছে। এই অবস্থায় তাঁকে সরিয়ে দিলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আসন্ন মুম্বই নগর নিগম-সহ একাধিক পুরসভার ভোটে।
এরই মধ্যে বিজেপির একটি সূত্রে বলা হয়েছে, বিহার ফরমুলা মেনে শিন্ডেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে রেখে দিতে পারে বিজেপি। সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্রে দলের বিপুল জয়ের কাণ্ডারি দেবেন্দ্র ফড়ণবিশকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি করা হতে পারে। অবশ্য সর্ব ভারতীয় সভাপতি পদে নাড্ডার উত্তরসুরি হিসাবে বিবেচনায় আছে ভূপেন্দ্র যাদবের নামও। কেন্দ্রের পরিবেশ মন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদব মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটে দলের প্রধান পর্যবেক্ষক ছিলেন। প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচার সব বিষয়েই দলকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিহারে নীতীশ কুমারকে বিজেপি ২০০৪ সাল থেকে কয়েক দফায় সমর্থন জুগিয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের দলের বিধায়ক সংখ্যা বিজেপির অর্ধেকেরও কম। বিহার ফরমুলা নেমেই মহারাষ্ট্রে শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী মেনে নিয়ে গত আড়াই বছর মহায়্যুতি সরকার চলেছে। সেই জোটের তিন শরিক শিবসেনা, এনসিপি এবং বিজেপি, তিন দলেরই ফল আশাতীত ভাল হয়েছে। বিপুল জয়ের পিছনে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শিন্ডের স্বচ্ছ এবং কাজের মানুষ ভাবমূর্তি বড় ভূমিকা নিয়েছে মানে বিজেপিও।
২০২২-এ শিন্ডে শিবসেনা ছেড়ে বেরিয়ে এসে বিজেপির হাত ধরার পর ঠিক হয়েছিল ফড়ণবিশ ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। শিন্ডে হবেন উপমুখ্যমন্ত্রী। দু’জনে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে সেকথা জানিয়ে এসে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু দিল্লি থেকে অমিত শাহ ফোন করে ফড়ণবিশকে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী চাইছেন শিন্ডেই মুখ্যমন্ত্রী হোন, ফড়ণবিশ মন্ত্রিসভায় উপ মুখ্যমন্ত্রী থাকুন। সেই ফরমুলায় আড়াই বছর সরকার চালিয়েছেন শিন্ডে-ফড়ণবিশরা। এবারও তার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ফড়ণবিশ দলের সর্ব ভারতীয় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।