Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সুপ্রিম-সাহস দেখাল না আদালত! বিয়ে বৈধ নয়, তাহলে কী কী বদলাল সমলিঙ্গের যুগলদের জীবনে

সুপ্রিম-সাহস দেখাল না আদালত! বিয়ে বৈধ নয়, তাহলে কী কী বদলাল সমলিঙ্গের যুগলদের জীবনে

শেষ আপডেট: 17 October 2023 20:11

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সেই সুপ্রিম রায়ের জন্যই মুখিয়ে ছিল সারা দেশ। তাঁরা কেউ এমন বিয়ের পক্ষে, কেউ বা বিপক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত সমলিঙ্গের বিয়েকে বৈধ বলে ঘোষণা করেনি দেশের শীর্ষ আদালত। বরং সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রের আইনসভার উপর চাপিয়েছে ৫ বিচারপতির একটি বেঞ্চ। স্বভাবতই এই রায়ে এলজিবিটিকিউআইএ সম্প্রদায়ের অনেকেই ক্ষুব্ধ, আশাহত। তবে বিয়েতে স্বীকৃতি না দিলেও সমকামী সম্পর্ককে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই রায়ে কতখানি বদলাল এলজিবিটিকিউআইএ যুগলদের জীবন? বা আদৌ কি কিছু বদলাল? 

এদিনের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সিনিয়র আইনজীবী এবং মামলার একাধিক আবেদনকারীর আইনজীবীগীতা লুথরা সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, 'যদিও বিয়ের অধিকার দেওয়া হয়নি, কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে প্রতিটি বিবাহিত দম্পতির যা যা অধিকার রয়েছে, তা সমকামী দম্পতিদের জন্যও থাকা উচিত।'

এলজিবিটিকিউআইএ + অধিকার কর্মী হরিশ আইয়ার যিনি নিজেও আবেদনকারীদের মধ্যে একজন ক্যুইয়ার সম্প্রদায়ের পক্ষে রায়ের ব্যাপারে তাঁর পর্যবেক্ষণগুলি জানিয়েছেন। "যদিও শেষ পর্যন্ত রায় আমাদের পক্ষে ছিল না, কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষণই আমাদের পক্ষে ছিল। আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের উপরও দায় চাপিয়েছে। সলিসিটর জেনারেল আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কিছু বলেছেন, তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের নির্বাচিত সরকার, সাংসদ এবং বিধায়কদের কাছে যেতে এবং তাদের বলতে হবে আমরা দুজন সাধারণ মানুষের মতোই আলাদা। লড়াই জারি আছে। সময় লাগতে পারে, তবে আমরা শেষ পর্যন্ত সামাজিক সমতা পাবই," দাবি তাঁর। 

অঞ্জলি গোপালন একজন আবেদনকারী এবং ট্রান্স-আন্দোলনের নেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁরা এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন এবং সেই লড়াই চালিয়ে যাবেন। "দত্তক নেওয়ার বিষয়েও কিছুই করা হয়নি। প্রধান বিচারপতি যা বলেছিলেন তা দত্তক নেওয়ার ব্যাপারে খুবই ভাল কথা। কিন্তু দুঃখজনক যে অন্য বিচারপতিরা একমত হননি। এটা গণতন্ত্র, কিন্তু আমরা আমাদের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করছি।'

গত মে মাসে কেন্দ্র জানিয়েছিল, তারা প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং পেনশনের মতো পরিষেবাগুলি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমকামী দম্পতিদের যে সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তা দেখার জন্য মন্ত্রিপরিষদের সচিবের নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠন করার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সেই প্যানেল আদৌ গঠিত হয়েছে কিনা সেই সংক্রান্ত আর কোনও তথ্য কেন্দ্র জমা দেয়নি আদালতে। 

সমকামী সম্পর্কে যুগলের অধিকার কোনও নির্বাচনী 'ইস্যু' নয়। তবে এই সংক্রান্ত ছোটখাটো পদক্ষেপেরও যথেষ্ট গুরুতর রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে, বিশেষত যেখানে ধর্মীয় সংগঠন সহ সমাজের মধ্যে থেকে এই ব্যাপারে বারবার প্রতিরোধ এসেছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে আর পাঁচটা বিষয়ের মতো সমলিঙ্গের দম্পতিদের বিবাহকে বৈধতা দেওয়া নিয়ে আদৌ কেন্দ্র মাথা ঘামাবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। 

আদালতে আবেদনকারীরা হিন্দু বিবাহ আইন, বিদেশি বিবাহ আইন, বিশেষ বিবাহ আইন এবং অন্যান্য বিবাহ আইনের কিছু বিধানের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই বিবাহ আইনগুলি সমকামী যুগলদের বিবাহের অধিকার অস্বীকার করে। সমলিঙ্গের বিয়েকে এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাঁরা এই বিধানগুলি বিস্তৃতভাবে পড়ার জন্য আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তার কারণ হল, আদালত আগেই জানিয়েছিল, এই সংক্রান্ত বিষয় ব্যক্তিগত আইনের অধীনে যাবে না এবং তারা শুধুমাত্র বিশেষ বিবাহ আইনের দিকেই নজর দেবে।

এদিন প্রধান বিচারপতি  ডিওয়াই চন্দ্রচূড় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আদালত আইনি বিতণ্ডায় ঢুকবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিশেষ বিবাহ আইনে বদল আনার প্রয়োজন আছে কিনা, তা আইনসভায় নির্ধারিত হবে। 

এদিন প্রধান বিচারপতি সমকামী দম্পতিদের সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকারের সপক্ষে সওয়াল করেছেন। যদিও বাকি বিচারপতিরা তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন।

তবে প্রধান বিচারপতি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনা তালিকাভুক্ত করে দিয়েছেন। সরকারকে তিনি এটা নিশ্চিত করতে বলেছেন যে এলজিবিটিকিউআইএ+ দম্পতিদের প্রতি বৈষম্য করা হবে না এবং অন্যদের মধ্যে ক্যুইয়ার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।


```