শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, সমস্যা শুধু অশ্লীলতার নয়, তার থেকেও গভীর ‘বিকৃতি’র।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 27 November 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) লাগামছাড়া ভিডিও, অবাঞ্ছিত কনটেন্ট এবং ইউটিউবারদের (Youtuber) বিতর্কিত মন্তব্য— এই সবের দায় কার? ‘ইন্ডিয়া’স গট ল্যাটেন্ট’ মামলার শুনানিতে সেই প্রশ্নটিকেই সামনে আনল সুপ্রিম কোর্ট। কঠোর মন্তব্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kanta)। জানালেন, “নিজের চ্যানেল খুলেই দায়মুক্তির রাস্তা নয়, কারও তো জবাবদিহি থাকতেই হবে।”
‘স্বাধীনতার নামেই বিকৃতি চলবে না’, কেন্দ্রকে স্পষ্ট বার্তা
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, সমস্যা শুধু অশ্লীলতার নয়, তার থেকেও গভীর ‘বিকৃতি’র। “স্বাধীন মতপ্রকাশ অমূল্য, কিন্তু তার আড়ালে বিকৃতি ছড়ানো চলে না।” প্রধান বিচারপতির পাল্টা মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে কেউ জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারে না।
‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ (Anti National Content) কনটেন্ট নিয়ে উদ্বেগ
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি প্রশ্ন তোলেন, “যদি আপলোড হওয়া কনটেন্ট দেশবিরোধী বলে মনে হয়, তখন দায় নেবে কে?” আদালতের আরও উদ্বেগ, “কনটেন্ট ভাইরাল হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। নিয়ন্ত্রণ করবেন কী করে?”
অটোনোমাস ওয়েব কনটেন্ট ওয়াচডগ? ইঙ্গিত আদালতের
প্রশান্ত ভূষণ মত প্রকাশের স্বাধীনতার স্বার্থে সতর্ক থাকার বার্তা দেন। ইতিহাস, ভূপ্রকৃতি বা টিকা নিয়ে বিতর্কিত আলোচনাকেও ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ তকমা দেওয়ার বিপদ ব্যাখ্যা করেন তিনি। তবে তাঁর কিছু উদাহরণে আপত্তি তোলে কেন্দ্র।
এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই কারণেই আমরা স্বশাসিত এক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কথা ভাবছি। শিশুরাও মত প্রকাশের অধিকারী— কিন্তু সমাজকে দায়িত্বশীল করাও জরুরি।”
আদালতের পরামর্শ—
এই নিয়ে কেন্দ্রকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিয়মের প্রস্তাব দিতে নির্দেশও দেয় শীর্ষ আদালত।
ব্যক্তিগত কটূক্তি ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে মন্তব্য, সময় রায়নার সেই বিতর্কিত ভিডিও-ও উঠে আসে শুনানিতে। আদালত জানতে চায়, “ওই ছেলেরা এখন ঠিকঠাক আচরণ করছে তো?” এসএমএ আক্রান্তদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী জানান, রায়নার মন্তব্যে বহু রোগী ও পরিবার অপমানিত হয়েছেন। রায়না ক্ষতিপূরণ হিসেবে টাকা দিতে চাইলেও তারা মানা করেছে। বলছেন, “আমরা টাকার জন্য আসিনি, মর্যাদার জন্য এসেছি।”
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “এসসি/এসটি আইনের মতো কঠোর শাস্তিযোগ্য আইন ভাবতে পারে কেন্দ্র। কারও মর্যাদা হরণ করে হাস্যরস চলতে পারে না।” বেঞ্চের প্রস্তাব, সময় রায়না যেন এসএমএ আক্রান্তদের নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করেন। পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ওদের সাফল্য তুলে ধরুন। মানুষকে সম্মান দিন।”