
অখিলেশ যাদব। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 April 2025 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ বিল (সংশোধনী) ২০২৪-এর আলোচনায় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এদিন অত্যন্ত সুললিত ভাষায়, ঠান্ডা মাথায় বিজেপির মূল উদ্দেশ্য নিয়ে অস্ত্রোপচার করলেন লোকসভায়। অখিলেশ বলেন, বিজেপি জমির জন্য লালায়িত। ওরাই রেল ও প্রতিরক্ষা বিভাগের জমি বেচতে বহু পরিবর্তন করেছে। আর এখন ওরা ভোটেও বিভাজন চাইছে। গত লোকসভায় ওরা দেখে নিয়েছে, মানুষ ওদের ভোট কম দিচ্ছে। বিশেষ করে আমার রাজ্যে ওদের মুখ পুড়েছে।
আগে ওরা ভোটের জন্য হিন্দু ও মুসলিম ভোট ভাগ করেছে। এখন মুসলিমদের মধ্যেও নানান গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, নোটবন্দি সহ বহু পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। কিন্তু কোনওটাই সম্পূর্ণ করতে পারেনি। অখিলেশ নোটবন্দির সময় সাধারণ মানুষের দুর্দশার সঙ্গে বিজেপির ঘরে টাকা বদলের অভিযোগের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তাঁর চাঁচাছোলা ভাষায় মন্তব্য, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, রাজনীতি তাঁর আংশিক সময়ের কাজ। তাহলে দিল্লি থেকেও কেন এরকম আংশিক সময়ের লোককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না?
ওয়াকফ বিল নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে বলতে গিয়ে অযোধ্যায় রামমন্দির প্রসঙ্গ, করসেবা ও অশান্তি ছড়ানোর প্রসঙ্গ সবই টেনে আনেন। অখিলেশ বলেন, আমরা সেই দেশের মানুষ যে দেশ বুদ্ধদেবকে বুকে জড়িয়ে ধরে পুজো করে। আমি অন্য ধর্মের দৃষ্টান্ত টানছি না। ভগবান বুদ্ধও তো হিন্দু ধর্মের অনেক কিছু মানতেন না, হিন্দু পুরাণ, উপনিষদ বিশ্বাস করতেন না। তাতেও আমরা সেই দেশের মানুষ যারা এখনও বুদ্ধদেবকে পুজো করি। আসলে ওরা ওদের কাজের ব্যর্থতা ধরা পড়ে গেলেই একটা করে বিল নিয়ে এসে মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয়।
ওয়াকফ বিল বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধীদের পক্ষে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বুধবার মিছরির ছুরি দিয়ে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেন বিজেপি সরকারকে। ভাষণে তিনি বিশ্বের সর্ববৃহৎ দল বলে বড়াই করা বিজেপির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দেরি হওয়ার কারণ নিয়ে বেঁধেন। অখিলেশ রসিক কায়দায় বলেন, দুনিয়ার সবথেকে বড় দল বলে বুক ফুলিয়ে বলে বেড়ানো বিজেপি কেন এখনও দলের সভাপতি ঠিক করতে পারছে না।
অখিলেশের কথায় বিরোধী বেঞ্চের সকলে একযোগে হাসিতে ফেটে পড়েন। এমনকী হাসি চাপতে পারেননি অমিত শাহ নিজেও। সঙ্গে সঙ্গে দলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উঠে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে জবাব দেন সপা প্রধানের তিরের। অমিত বলেন, বিজেপি দলে সভাপতি নির্বাচনের একটি পদ্ধতি আছে। সেগুলি সম্পূর্ণ করতে সময় লাগে। এটা অন্য পার্টির মতো নয়। যেখানে দলের সভাপতি নির্বাচিত হল পরিবারের কেউ।
শাহ বলেন, অখিলেশজি হাসিমুখে মন্তব্য করেছেন। তাই আমিও একইভাবে তাঁকে উত্তর দিতে চাই। আমাদের উল্টোদিকে তাদের অধিকাংশেরই জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত পরিবারের কেউ। আমাদের প্রক্রিয়াটি আলাদা। দেশের ১২-১৩ কোটি সদস্য এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভাগীদার থাকেন। তাই একটু দেরি হতেই পারে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে এও বলতে পারি যে, যেমন আপনি আপনাদের দলের ২৫ বছর ধরে সভাপতি থাকবেন। আমাদের দলে তা হয় না।