ভোটার তালিকা নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ফের নস্যাৎ করল নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট আইন মেনেই নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া হয়, এবং ভোটচুরির অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 September 2025 00:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা নিয়ে রাহুল গান্ধীর অভিযোগে সরব হল নির্বাচন কমিশন। আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়াতেই ভোটার তালিকা তৈরি হয় বলে সাফ জানিয়ে দিল তারা। কারও নাম সংযোজন, সংশোধন বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো কঠোরভাবে মানা হয়। মূল উদ্দেশ্য, যোগ্য ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাজার হাজার ভোটারের নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন কর্নাটকের আলন্দ বিধানসভা আসনে ৬,০০০-এরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা। মহারাষ্ট্রের রাজুরা কেন্দ্রের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শুক্রবার আবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে কটাক্ষের সুরে লেখেন, ‘ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে ৩৬ সেকেন্ডে দু’জন ভোটারের নাম কেটে দিন, তারপর আবার ঘুমোতে যান, এভাবেই চলছে ভোটচুরি!’
কমিশন অবশ্য বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই ভুয়ো আবেদন জমা পড়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, রাজুরা কেন্দ্রে ২০২৪ সালে নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য জমা পড়েছিল ৭,৭৯২টি আবেদন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা যায়, ৬,৮৬১টি আবেদনই অবৈধ। সন্দেহজনক এই বিপুল সংখ্যক আবেদন সামনে আসার পর ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার তদন্ত শুরু করেন এবং পরবর্তীতে থানায় এফআইআরও দায়ের হয়।
একই পরিস্থিতি আলন্দ বিধানসভারও। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে জমা পড়া ৬,০১৮টি আবেদনের মধ্যে মাত্র ২৪টি আসল বলে প্রমাণিত হয়েছে। কমিশন জানায়, ‘কোনও সাধারণ মানুষ অনলাইনে বসে ইচ্ছেমতো কারও ভোট কেটে দিতে পারবেন না। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম-৭ জমা দিলেই নাম কেটে যায় না। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভোটারকে আগে নোটিস দেওয়া হয় এবং তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়াও বাধ্যতামূলক।’
অতএব, রাহুলের অভিযোগের মাঝেও কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, প্রক্রিয়া ভুয়ো আবেদন আটকাচ্ছে, ভোটচুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন।