
কান্নায় ভেঙে পড়েছে মৃতের পরিবার - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 July 2024 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বঘোষিত ধর্মগুরুর একটা ডাক আর 'সৎসঙ্গে' ২ লক্ষের ভিড়! তারপরই অঘটন। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১২১ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ এখনও বহু মানুষের খোঁজ মিলছে না। ঘটনাস্থলে অনেকে আসছেন তাদের পরিচিতদের খুঁজতে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকছেন, হতাশায়, কান্নায় একাকার হয়ে চলেও যাচ্ছেন। অধিকাংশের মুখে একটাই কথা, বাবার যদি সত্যি ক্ষমতা থাকত...
নারায়ণ সাকার ওরফে 'ভোলে বাবা', যিনি এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তিনি এখন 'নিখোঁজ'। তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্য সরাসরি কোনও অভিযোগ তুলে মামলাও দায়ের হয়নি। তবে আয়োজকদের একাংশের বিরুদ্ধে মামলা হলেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে আমজনতার। যাঁরা ভক্তিভাবে 'ভোলে বাবা'র আর্শীবাদ নিতে গেছিলেন তারাও এখন বলছেন, যদি বাবার সত্যি কোনও ক্ষমতা থেকে থাকে তাহলে আমাদের শোক কম করুন। তাঁর উচিত সকলের সঙ্গে দেখা করা। যারা আহত তাঁদের চিকিৎসায় সাহায্য করা।
পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর থেকে 'ভোলে বাবা'র পাত্তা পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি আড়ালে থেকে ইতিমধ্যে বার্তাও দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরই ওই ঘটনা ঘটেছে এবং তা ঘটিয়েছে সমাজবিরোধীরা! কিন্তু তিনি সামনে না এলেও পুলিশের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অনুষ্ঠানে ৮০,০০০ মানুষ আসার অনুমান করেছিল আয়োজকরা। কিন্তু পরে দেখা যায়, অন্তত আড়াই লক্ষ মানুষের ভিড় হয়। এদিকে অনুষ্ঠানে ঢোকা এবং বেরনোর জন্য মাত্র ২টি দরজার ব্যবস্থা ছিল। আর ভিড় নিয়ন্ত্রণে মাত্র ৭০ জন পুলিশ! কেন আগে থেকে আয়োজকরা কোনও ব্যবস্থা নিলেন না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দুর্ঘটনা যাঁদের জন্য হয়েছে তাঁদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। পাশাপাশি রাজ্য সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক কমিটি দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন। সেই অনুযায়ী তৈরি এই কমিটিতে রয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ব্রিজেস কুমার শ্রীবাস্তব। তাঁর নেতৃত্বে কাজ করবেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার হেমন্ত রাও এবং অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার ভাবেশ কুমার সিং।
আদিত্যনাথ হাথরাসের এই ঘটনা নিয়ে দুঃখপ্রকাশ তো করেছেন। তবে তিনি আয়োজকদের নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ''অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দুর্ঘটনার বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতবড় ঘটনা লুকোনোর চেষ্টা করে তারা কেউ পার পাবে না।'' যোগীর কথায়, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বলা ভুল হবে। যদি সেটাই হয়, তাহলে এতবড় ষড়যন্ত্রের পিছনে কে বা কারা আছে, তা জানতে হবে।