
উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 22 April 2025 14:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচার ব্যবস্থা, নাকি আইনসভা কে বড়? এই বিতর্কে নতুন করে বিচার বিভাগকে আক্রমণের তোপবর্ষণ দ্বিগুণ করলেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ধনখড় বিচার বিভাগের হামবড়াই মনোভাবের তুলোধনা করে ফের একবার জানিয়ে দিলেন, গণতন্ত্রে সংসদই শেষ কথা। সংসদই সর্বশক্তিমান।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাম না করে ধনখড় আরও বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী যিনি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, ১৯৭৭ সালে তাঁকেও দেশবাসীকে জবাব দিতে হয়েছিল। সুতরাং, এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে, সংবিধান হল দেশের মানুষের জন্য। আর এই সংবিধানকে রক্ষা করার দায়িত্বভারও অর্পণ করা হয়েছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা। ধনখড়ের স্পষ্ট যুক্তি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই হলেন সংবিধানের বিষয়বস্তু ঠিক করার মালিক। সংবিধানে বর্ণিত সংসদের উপরে কোনও কিছু চোখে পড়ে না। আমি তাই সাফ বলতে চাই, সংসদই হল সবার উপরে। দেশের প্রতিটা মানুষের যেমন সবার উপরে, তেমনই সংসদই সর্বশক্তিমান।
সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, রাজ্যপালদের বিল অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়বিধি বেঁধে দেওয়ার পর থেকে বিতর্ক ঘনিয়ে উঠেছে। উপরাষ্ট্রপতি এদিন সুপ্রিম কোর্টের পরস্পর-বিরোধী মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন। প্রাক্তন আইনজীবী ধনখড়ের কথায়, একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, প্রস্তাবনা সংবিধানের অঙ্গ নয়। আবার আরেকটি মামলায় এই শীর্ষ আদালতই মন্তব্য করে যে, প্রস্তাবনা সংবিধানেরই অঙ্গ।
ধনখড় এদিনের ভাষণে গণতন্ত্রে আলাপ-আলোচনার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে কখনই বাধা দেওয়া যায় না। আমাদের নীরবতা খুব বিপজ্জনক হতে পারে। সাংবিধানিক অধিকার রক্ষাকারীদের সংবিধান মেনেই এবং সংবিধানের দেখানো পথেই চলতে হয়। আমরা আমাদের ভারতীয়তা নিয়ে গর্ব বোধ করি। কী করে আমাদের গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা সহ্য করতে পারি। কোথাও সরকারি সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তো কোথাও সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এসব শক্তিকে নিকেশ করে ফেলতে হবে। প্রথমে সদ্ভাব বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে। তাতে কাজ না হলে প্রয়োজন পড়লে তেতো দাওয়াই দেওয়ার নিদান দেন ধনখড়।