কেরলের হিন্দু নেতা ভেল্লাপল্লি নেতেশন হিন্দু নারীদের সন্তানসংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজ্য শিগগির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারে। এলডিএফ-ইউডিএফ-এর মুসলিম পক্ষপাতের অভিযোগও তোলেন তিনি।

কেরলের হিন্দু নেতা।
শেষ আপডেট: 22 July 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'কেরল খুব শিগগিরই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হতে পারে। হিন্দু নারীরা সন্তান জন্ম দেওয়া কমিয়ে দিলে তা বিপজ্জনক।' সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দিলেন কেরলের প্রভাবশালী হিন্দু এঝাভা সম্প্রদায়ের নেতা ভেল্লাপল্লি নেতেশন। কোট্টায়মে একটি সভায় তিনি সরাসরি বলেন, হিন্দুদের উচিত আরও বেশি সন্তান নেওয়া এবং একত্র হয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা।
এ বক্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেতেশন কেরলের ক্ষমতাসীন এলডিএফ (LDF) ও বিরোধী ইউডিএফ (UDF)-এর বিরুদ্ধেও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর মতে, উভয় জোটই মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় বেশি আগ্রহী।
শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালন যোগমের এক নেতৃত্ব বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভেল্লাপল্লি বলেন, 'যদি হিন্দু এঝাভারা একজোট হয়, তাহলে কেরলের শাসক কে হবেন, তা আমরাই নির্ধারণ করব।'
তিনি কটাক্ষ করে আরও বলেন, 'এই দেশ এখন আর সেক্যুলার নেই।' কারণ হিসেবে তুলে ধরেন সাম্প্রতিক একটি বিতর্ক, যেখানে কেরলের শিক্ষা দফতর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্কুলের সময়সীমা বাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু মুসলিম সংগঠন সমস্থা (Samastha) সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিল ওনাম ও বড়দিনের ছুটি কমাতে।
নেতেশন বলেন, 'ভিএস অচ্যুতানন্দন (কেরলের সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী) একবার বলেছিলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে কেরল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত হবে। আমার মনে হচ্ছে, ২০৪০ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না।'
তাঁর দাবি, কিছু বিধানসভা আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে দেখা যাচ্ছে, আলাপ্পুঝায় হিন্দুদের সন্তানসংখ্যা কমে যাওয়ায় দুইটি আসন কমেছে। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মলপ্পুরমে সন্তানসংখ্যা বৃদ্ধির জেরে চারটি আসন বেড়েছে।
তিনি হিন্দু নারীদের উদ্দেশে বলেন, 'আমার প্রিয় বোনেরা, দয়া করে সন্তান জন্ম দেওয়া কমিয়ে দিও না।'
এর আগে এপ্রিল মাসেও নেতেশন একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কেরলের মলপ্পুরম জেলায় এক সভায় তিনি বলেন, 'মলপ্পুরম একটি আলাদা দেশ। সেখানে আপনি মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারেন না, এমনকি নিজের মত প্রকাশ করতেও পারেন না।'
এই বক্তব্য অনেকের মতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন বাড়ানোর চেষ্টা এবং কেরলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতির পরিপন্থী।