ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখে আয়কর দফতর মনে করছে, চার বছরে তাঁর দোকানে প্রায় ১.৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই অনুযায়ী তাঁকে ২৯ লক্ষ টাকার জিএসটি জমা দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়।

ছবি- এআই
শেষ আপডেট: 21 July 2025 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা। তাঁকে কিনা ২৯ লক্ষ টাকার জিএসটি নোটিস দিল কর্নাটকের আয়কর দফতর। সবদিক খতিয়ে জানা গেল বিপত্তি হয়েছে তাঁর ইউপিআই লেনদেনে। ফোনপে বা গুগল পে-তে নেওয়া প্রতিদিনের টুকরো টুকরো টাকা একসঙ্গে হয়ে দাঁড়াবে ১.৬৩ কোটি টাকার লেনদেনে! আর সেই হিসেব ধরেই তাঁকে জিএসটি দেওয়ার নোটিস পাঠিয়েছে আয়কর বিভাগ (Vegetable vendor gets huge tax notice)।
কর্নাটকের হাভেরি জেলায় একটি ছোট দোকান আছে শঙ্করগৌড়ার। সেখানেই সবজি বিক্রি করেন তিনি। স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাটকা সবজি কিনে তা বিক্রি করেন গ্রাহকদের। অনেকেই নগদের বদলে ইউপিআই, গুগল পে, ফোনপে-র মাধ্যমে টাকা মেটান। এই ডিজিটাল লেনদেনের (UPI transaction) তথ্য খতিয়ে দেখে আয়কর দফতর মনে করছে, চার বছরে তাঁর দোকানে প্রায় ১.৬৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই অনুযায়ী তাঁকে ২৯ লক্ষ টাকার জিএসটি (GST notice of 29 lakh rupees) জমা দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়।
নোটিস পাওয়ার পর হকচকিয়ে গিয়েছেন শঙ্করগৌড়া। একজন সাধারণ সবজি বিক্রেতা কীভাবে এত টাকা দেবেন? এনিয়ে তিনি জানিয়েছেন, 'আমি তো শুধু সবজি বিক্রি করি। এত টাকার হিসেব আমার জীবনে কোনওদিন দেখিনি। কোথা থেকে দেব এত টাকা?'
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কেউ সরাসরি চাষির কাছ থেকে টাটকা সবজি কেনেন, তাহলে সেগুলির বিক্রিতে জিএসটি ধার্য হয় না। শঙ্করগৌড়াও সেইভাবেই ব্যবসা করেন। তাই এমন একজন ছোট ব্যবসায়ীর উপর এত বড় অঙ্কের কর চাপানো কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরাও।
সম্প্রতি কর্নাটকের জিএসটি দফতর জানায়, যাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি লেনদেন করছেন, অথচ জিএসটি রেজিস্ট্রেশন করেননি, তাঁদের শনাক্ত করতেই এই অভিযান চলছে। ১২ জুলাই একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, কর ফাঁকি আটকাতেই এই পদক্ষেপ। ফলে বহু ছোট ব্যবসায়ী এখন ইউপিআই বন্ধ করে ফের নগদ লেনদেনে ফিরছেন।
নগদে যে রেহাই মিলবে, এই ধারণাও ভুল। ১৭ জুলাই জিএসটি দফতর ফের জানিয়ে দেয়, লেনদেন নগদ হোক বা ডিজিটাল, টাকার অঙ্ক বেশি হলেই কর দিতে হবে। কেউ আয় লুকোতে চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।