
শেষ আপডেট: 20 October 2023 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শতবর্ষে পা দিলেন কেরলের সিপিএম নেতা ভিএস অচ্যুতানন্দন। শুক্রবার তিরুবনন্তপুরমের বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা কেক কেটে তাঁর জন্মদিন পালন করেন। বয়সের কারণে গুরুতর অসুস্থ অচ্যুতানন্দন তিরুবনন্তপুরমে ছেলের সঙ্গে থাকেন। তিনিই বর্তমানে সিপিএমের প্রবীণতম পার্টি সদস্য। বয়সের কারণেই দলের কোনও গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়নি।
১৯৬৪ সালে কলকাতায় মূল কমিউনিস্ট পার্টি অর্থাৎ সিপিআই ভেঙে সিপিআই(এম) তৈরি করেছিলেন দলের তৎকালীন পলিটব্যুরোর সদস্য যে নেতারা তাঁদের মধ্যে একমাত্র অচ্যুতানন্দই বেঁচে আছেন। কেরলের কমিউনিস্ট পার্টির লড়াই-সংগ্রামের সঙ্গী অচ্যুতানন্দন বরাবরই বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পার্টির ভালমন্দ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলায়।
২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তখনও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি তাঁকে। দলের নীতি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় বারে বারে শাস্তি ভোগ করেছেন। যদিও বয়সের কারণে শয্যাশায়ী হওয়ার আগে পর্যন্ত মুখ বন্ধ রাখেননি সিপিএমের এই প্রতিষ্ঠাতা নেতা।
একই সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী, বিশেষ করে নেতা-মন্ত্রীর জীবনযাত্রা কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারে নিজেকেই দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরেছেন। অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেছেন বরাবর। প্রশাসনের সঙ্গে পরিবারের মধ্যে প্রাচীর তৈরি করেছিলেন। পৈত্রিক বাড়ি আলাপুজ্ঝায় গেলে প্রতিবেশীরা টের পেতেন না মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন। কারণ, পুলিশের কড়াকড়ির ঘোর বিরোধী ছিলেন ভিএস।
সেই কারণে পার্টির কেউ কেউ তাঁকে কেরলের বুদ্ধদেব বলেন। একইভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকেও বলা হত কেরলের ভিএস। দু’জনে একই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং দল ও প্রশাসনকে দুর্নীতি, অনিয়ম মুক্ত করতে নেমে অপ্রিয় হন। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো বড় প্রকল্পের জন্য জমি নেওয়ার কর্মসূচি হাতে না নিলেও ভিএস কেরলের পর্যটন ব্যবসাকে নিয়মে বাঁধতে গিয়ে দলে তীব্র বিরোধের মুখে পড়েন। দেহ-ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বেআইনি রিসোর্ট ভাঙতে গিয়ে বাধা পান রাজ্য নেতাদের থেকেও। সে কথাও রাজ্যবাসীর কাছে ফাঁস করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণে সক্রিয় রাজনীতিতে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন ভিএস। জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন সুবক্তা হিসাবেও।
অচ্যুতানন্দন মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় কেরল সিপিএমের সম্পাদক ছিলেন আজকের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। দলে দু’জনের কার্যধারায় কোনও দিনই মিল ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সম্পাদকের বিরোধ একটা সময় এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে সিপিএম শীর্ষ নেতৃত্ব শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দু’জনকেই পলিট্যবুরো থেকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা পলিটব্যুরো সদস্য ভিএসকে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সাড়া দেশেই পার্টিতে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি ভিএস।
যদিও তাতে দলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ রাখেননি। যে কারণে ২০১২-তে তাঁকে প্রকাশ্যে ভৎসর্না করে দল। কিন্তু প্রবীণ নেতা দলের ভালমন্দ নিয়ে নিজের মত বলে গিয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত পিনারাই সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন।
বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে বিব্রত করে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিলেও ভিএসের অনেক কথাই পার্টি পরে মেনে নিয়েছে। যেমন দেড় দশক আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় ভিএস-ই প্রথম কেরলে জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। আঙুল তোলেন বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের বিরুদ্ধে। সেই ধর্মান্তকরণের ইস্যুতেই তৈরি হয়েছে বিতর্কিত চলচ্চিত্র ‘দ্য কেরল স্টোরি’।