
শেষ আপডেট: 27 November 2023 08:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উল্লম্বভাবে পাহাড় কেটে ১৯.২ মিটার খনন কাজ হয়ে গেছে। মোট ৯০ মিটার মাটি খুঁড়তে হবে নভেম্বর ৩০ তারিখের মধ্যেই। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের এক শীর্ষ আধিকারিক, সায়েদ হাসনায়েন জানিয়েছেন, অগার মেশিনের ধ্বংসাবশেষ ও কংক্রিটের আবর্জনা সরানোর পাশাপাশি উল্লম্বভাবে পাহাড় কেটে প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা তৈরি হচ্ছে। বিকল্প সেই পথে খননকাজ শুরু হয়ে গেছে। আর ১৭০ মিটার মতো খোঁড়খুঁড়ি বাকি। আজ আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে পারে যখন তখন। উত্তরাখণ্ডে তুমুল বৃষ্টি ও তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। কাজেই সকাল থেকে যতটা সম্ভব কাজ এগিয়ে রাখতে চাইছেন উদ্ধারকারীরা।
রবিবার সকালেই হায়দরাবাদ থেকে বিমানে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে নতুন খনন যন্ত্র প্লাজমা কাটার। ডিআরডিও-র অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররাও এসে পৌঁছেছেন ঘটনাস্থলে। খননকাজে হাত লাগিয়েছে সেনা বাহিনীও। জানা গেছে, সুড়ঙ্গ থেকে অগার মেশিনের ভাঙা অংশগুলো অনেকটাই বের করে ফেলা হয়েছে। আর ৮.১৫ মিটার খুঁড়ে কংক্রিটের আবর্জনা বের করা হবে। পাশাপাশি উল্লম্বভাবে পাহাড় কেটে যে বিকল্প পথ তৈরি হচ্ছে তার খনন কাজ আজ সকাল থেকেই ফের শুরু হয়েছে। তবে তাতে কত সময় লাগবে সেটা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। আরও ১০-১২ দিন মতো সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুড়ঙ্গের উপরিভাগ থেকে মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে ৯০ মিটারের মতো পথ ভিতরে যেতে হবে। এই খননকাজের সঙ্গে সঙ্গেই ২০০ মিলিমিটার পাইপ ওই গর্তের মধ্যে দিয়ে ঢোকানো হবে। সেই পাইপ ঢোকানোর কাজ শুরু হয়েছে। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) থেকেও লোকজন নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরাও হাত লাগিয়েছেন খননকাজে। জানা গেছে, উল্লম্বভাবে খনন শুরু হওয়ার পর থেকে কোনও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি। ২০০ মিলিমিটার পাইপ ঢোকানোর পাশাপাশি, নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ওই পাইপের উপর দিয়ে ৮০০ মিমির চওড়া পাইপ ভিতরে ঢোকানো হবে।
গত ১৬ দিন ধরে উত্তরকাশীর টানেলে আটকে রয়েছেন বাংলার ৩ সহ মোট ৪১ জন শ্রমিক। বিগত কয়েকদিনে উদ্ধারকাজে গতি এসেছিল। তবে হিমালয়ের আবহাওয়ায় খামখেয়ালিপনার জেরে বারবারই থমকেছে ড্রিলিংয়ের কাজ। এর জেরে এখনও টানেলে বসেই প্রহর গুনতে হচ্ছে ৪১ জন শ্রমিককে। গত বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও ফের একবার ড্রিল করতে গিয়ে পাহাড়ে কোনও এক ধাতব জালে আটকে ভেঙে যায় বিদেশি ড্রিলিং মেশিন। যে প্ল্যাটফর্মের উপর মেশিনটি রেখে কাজ চলছিল সেটি 'ডি-স্টেবিলাইজড' হয়ে গিয়েছিল। এই কমজোরি হয়ে পড়া প্ল্যাটফর্মটি ঠিক না করা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ ফের পুরোদমে শুরু করা যাবে না বলেই জানা গিয়েছিল। তবে এখন সেই প্ল্য়াটফর্মটি স্টেবিলাইজ করার কাজ চলছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে অগার যন্ত্রের বিকল অংশকে কেটে বার করার জন্য লেজারকাটার যন্ত্র ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা। প্রয়োজনে ম্যাগনাকাটার যন্ত্রও ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।