
শেষ আপডেট: 27 November 2023 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ দিন সময় কেটে গিয়েছে। উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে এখনও বের করে আনা সম্ভব হয়নি ৪১ জন শ্রমিককে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অগার মেশিন ইতিমধ্যেই ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে। শুরু হয়েছে ম্যানুয়াল ড্রিলিং। সোমবার সকাল থেকে পাহাড় কেটে উল্লম্ব খনন কাজ চলছে। আর ৮৬ মিটার রাস্তা খনন করলেই পৌঁছনো যাবে শ্রমিকদের কাছে। এর মধ্যে ২০ মিটার খননকাজ হয়ে গেছে।
ন্য়াশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)-র সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল সায়েদ হাসনায়েন বলছেন, বিকল্প ৬টি উপায় ভেবে রাখা হয়েছে। কোনওভাবে যদি উল্লম্ব খননকাজ ব্যর্থ হয়, তাহলে ড্রিফট টেকনোলজিতে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হবে।
আনুভূমিকভাবে খননকাজে ব্যবহৃত অগার মেশিন সুড়ঙ্গের ভেতরে ধাতব জালে আটকে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এই মেশিনের ভাঙা টুকরো বের করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শ্রমিকদের। সুড়ঙ্গের পথে কংক্রিটের আবর্জনা বড় বাধা তৈরি করেছে। তাই এখন ‘ভার্টিকাল ড্রিলিং’ বা উল্লম্বভাবে খোঁড়খুঁড়িতেই বেশি জোর দিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। হায়দরাবাদ থেকে বিমানে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে প্লাজমাকাটার যন্ত্র। এই যন্ত্র নিয়ে পাহাড় কেটে নতুন করে রাস্তা তৈরির চেষ্টা চলছে।
এনডিএমএ-র আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সায়েদ জানিয়েছেন,পাহাড় কেটে ৮৬ মিটার রাস্তা তৈরি হবে। সেই পথেই পৌঁছে যাওয়া যাবে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে। ২০ মিটারের মতো খোঁড়াখুঁড়ি হয়ে গেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে উল্লম্ব ভাবে খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে যদি এই প্রক্রিয়াও কোনওভাবে ব্যর্থ হয় তাহলে ড্রিফট প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে।
খনিতে রাস্তা তৈরির জন্য ড্রিফট টেকনোলজির প্রয়োগ করা হয়। এই উপায়ে ছোট ছোট গর্ত বা সুড়ঙ্গ খোঁড়া যায়। ড্রিফট ড্রিলিংয়ের জন্য যে যন্ত্রপাতি লাগে তা রবিবারই পৌঁছনোর কথা ছিল, তবে তা এসে পৌঁছয়নি। এই প্রক্রিয়ায় সুড়ঙ্গের দুই পাশ থেকে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হবে। ছোট ছোট সুড়ঙ্গ তৈরি করে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা হবে।
এই সুড়ঙ্গের অন্য প্রান্ত বারকোটের দিকে। সেদিক থেকেও শুরু হচ্ছে খননকাজ। ৪৮৩ মিটার সুড়ঙ্গের ১০ মিটারের মতো সেদিক থেকেও খোঁড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অয়েল অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস কমিশন (ওএনজিসি)-কে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের সাহায্যে মোট ৫ কিমি রাস্তা তৈরি করতে হবে।
ইতিমধ্যেই ২০ মিটার ভার্টিক্যাল ড্রিলিংয়ের সাহায্যে একটি ৭০০ মিলিমিটার পাইপ দুর্ঘটনাস্থলে ঢোকানো হয়েছে। আরও একটি ২০০ মিলিমিটার পাইপ ভিতরে ঢোকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।