
শেষ আপডেট: 28 November 2023 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরকাশীর টানেলে আটকে পড়ে ৪১ জন শ্রমিকের প্রাণ বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। টানা ১৭ দিন প্রায় অন্ধকূপের মতো জায়গায় আটকে থাকা বিভীষিকার মতো ছিল শ্রমিকদের কাছে। বাইরে থেকে পাইপের মাধ্যমে খাবার ও ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু তাতে কি আর দুশ্চিন্তা দূর হয়? আটকে থাকা শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে উদ্ধারকারী দল। অবশেষে মঙ্গলবার মিলেছে বড় সাফল্য। 'র্যাট হোল মাইনিং' পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গ কেটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। এখন শুধু তাঁদের বাইরে বের করে আনার অপেক্ষায় আছেন সকলে। আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ৩ জন বাংলার শ্রমিক আছেন। তাঁদের সুস্থভাবে টানেল থেকে বের করে, বাংলায় ফিরিয়ে আনতে উত্তরকাশী পৌঁছেছে রাজ্য সরকারের একটি প্রতিনিধি দল।
বাংলার তিন শ্রমিকের বাড়ি ফেরার ব্যাপারে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেইজন্যই এই প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। টানেল থেকে বের করে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হবে হাসপাতালে। অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক সকলেই রয়েছেন টানেলের কাছে। একে একে শ্রমিকদের বের করে আনা হবে সুড়ঙ্গের মধ্যে থেকে, তারপর অ্যাম্বুলেন্সে করে সোজা পাঠানো হবে হাসপাতালে। সঙ্গে থাকবেন চিকিৎসকরা।
বাংলার তিন শ্রমিকের মধ্যে সৌভিক পাখেরা ও জয়দেব প্রামাণিক হুগলির বাসিন্দা। আর মানিক তালুকদারের বাড়ি কোচবিহারে। উদ্ধার করার পর তাঁদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি দল উত্তরকাশী পৌঁছেছে।
এদিকে, টানেলের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল। মজুত রাখা হয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডারও। শ্রমিকদের যেন আর কোনও কষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। স্ট্রেচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই স্ট্রেচারে করে শ্রমিকদের বাইরে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চারধামে যাতায়াতের জন্য উপযোগী রাস্তা তৈরি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিল উত্তরাখণ্ড সরকার। আর সেই প্রকল্পের অধীনেই চলছিল সিল্কয়ারা টানেলের কাজ। এই কাজ চলাকালীন গত ১২ নভেম্বর ঘটে বিপত্তি। টানেলের মধ্যে আচমকা ধস নামে। সেইসময় টানেলের মধ্যে কাজ করছিলেন ৪১ জন শ্রমিক। ধস নামার পর আটকে পড়েন তাঁরা।