
শেষ আপডেট: 28 November 2023 17:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ১৭ দিন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিকদের অপেক্ষার অবসান ঘটল। উদ্ধারকারী দল পাহাড় কেটে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে পারল। মার্কিন যন্ত্র অগার মেশিন বিকল হওয়ার পর উদ্ধারের কাজে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। সোমবার থেকে শুরু হয় 'র্যাট-হোল মাইনিং'। 'ইঁদুরের গর্ত' খুঁড়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরে এই পদ্ধতিতেই মেলে সাফল্য!
সোমবার থেকেই এই 'র্যাট-হোল মাইনিং' নিয়ে চর্চা শুরু হয়। অনেকের কাছে এই শব্দটি পরিচিত নয়। তবে যাঁরা খনি খননের সঙ্গে যুক্ত তাঁরা জানেন র্যাট-হোল মাইনিং কী!
খনির মধ্যে কাঁচামাল তোলার জন্য 'র্যাট-হোল' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষত, খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য এই প্রক্রিয়া প্রচলিত। খনির মধ্যে ঢোকা ও বেরনোর জন্য শ্রমিকরা এই 'ইঁদুরের গর্ত' খোঁড়েন। ইঁদুর যেমন মাটির নীচে যাতায়াত করার জন্য ছোট ছোট গর্ত খোঁড়ে, তেমনই খনি থেকে কাঁচামাল তোলার জন্য এমন গর্ত করেন শ্রমিকেরা। সাধারণত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শ্রমিকেরা খনিতে নামেন। সরু গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তে খুব অল্প জায়গার মধ্যে দিয়ে শ্রমিকেরা খনির মধ্যে প্রবেশ করেন। একই পদ্ধতিতে আবার কাঁচামাল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। এই প্রক্রিয়ায় চার ফুটের বেশি গভীর গর্ত খোঁড়া হয় না।
উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে এই ইঁদুরের গর্ত খোঁড়ার জন্য কাজ করেছেন ১২ জন অভিজ্ঞ শ্রমিক। 'র্যাট-হোল' খুঁড়ে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে পেরেছেন তাঁরা। এখন প্রশ্ন হল কেন 'র্যাট-হোল মাইনিং'-এর প্রয়োজন পড়ে?
প্রথমে সুড়ঙ্গের সামনের অংশ দিয়ে অগার যন্ত্র খোঁড়ার কাজ শুরু করে। ৫৬ মিটার লম্বা পথ খুঁড়তে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়ে যন্ত্রটি। গত শুক্রবার সুড়ঙ্গের মধ্যে একটি ধাতব জালে আটকে অকেজো হয়ে যায় সেটি। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে জানান, ওই যন্ত্র দিয়ে আর খোঁড়া সম্ভব নয়। তারপরই বিকল্প রাস্তা খোঁজা শুরু হয়। অনেক আলোচনার পর ঠিক হয় উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হবে 'র্যাট-হোল মাইনিং' পদ্ধতি।
উত্তরকাশীতে এই পদ্ধতিতে সাফল্য মিললেও আদতেও ভারতে এই পদ্ধতি নিষিদ্ধ! ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল ২০১৪ সালে ইঁদুর-গর্ত খননকে অবৈজ্ঞানিক বলে নিষিদ্ধ করেছিল। এই পদ্ধতিতে খনন করতে গিয়ে অনেক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাও হয়েছে। বিশেষত, উত্তর-পূর্ব ভারতের খনিগুলিতেই এই দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে।
২০০৮ সালে এক খনিতে অবৈধ খননের সময় ১৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিল। দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মাত্র দু'জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। ২০২১ সালে এরকম আর একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় ৫ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। এক মাস ধরে উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে তিনজনের দেহ উদ্ধার করতে পেরেছিল। বাকিদের খোঁজ মেলেনি। শুধু তাই নয়, 'র্যাট হোল মাইনিং' পদ্ধতির কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এখনও অনেক খনিতেই এই পদ্ধতির প্রচলন আছে।
উত্তরকাশীতে উদ্ধারকাজে সেই বেআইনি পদ্ধতিতেই আটকে থাকা শ্রমিকদের সম্ভব হয়েছে। এই জন্য দিল্লি থেকে দু'টি বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়েছিল। সেই দলে ১২ জন সদস্য ছিলেন। উত্তরাখণ্ড সরকারের নোডাল অফিসার নীরজ খয়েরওয়াল অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, র্যাট হোল খননের জন্য যাঁদের আনা হয়েছিল তাঁরা কেউই খনিতে ইঁদুর-গর্ত খননের শ্রমিক নন বরং এই পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ ছিলেন।