
শেষ আপডেট: 23 November 2023 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূরত্ব আর ১০ মিটারের। কংক্রিটের জঞ্জাল সরিয়ে, ইভাকুয়েশন পাইপ দিয়ে শ্রমিকদের কাছে আর কিছু সময় পরেই পৌঁছে যাবেন উদ্ধারকারীরা। ১৫ সদস্যের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঢুকেছে সুড়ঙ্গের ভিতরে। সুড়ঙ্গের বাইরে তৈরি আছে অ্যাম্বুল্যান্স, হেলিকপ্টার। তৈরি হয়েছে কন্ট্রোলরুমও।
সূত্রের খবর, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও-র তরফে পাঠানো হয়েছে দুটি রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল। দক্ষ মিনি ও দক্ষ স্কাউট নামক এই দুটি রোভারই সুড়ঙ্গের ভেতরে কাজ করছে। ডিআরডিও জানিয়েছে, এই দুটি রোভারেই রয়েছে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা, ম্যানিপুলেটেড আর্ম যা ভারী জিনিস বইতে পারে, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে পারে, কোনও জায়গার ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ দিতে পারে। তাছাড়া ওই দুটি রোভারই ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম।
সুড়ঙ্গের ঠিক বাইরে রাখা হয়েছে ৪০-৪১টি অ্যাম্বুল্যান্স। সঙ্কটাপন্ন শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে হেলিকপ্টার। সুড়ঙ্গের ঠিক বাইরেই তৈরি হয়েছে কন্ট্রোলরুম। এর ভেতরে ৮ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। শ্রমিকদের উদ্ধারের পরই সেখানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করা হবে। সেখানে সবসময় থাকছেন ১৫ জন চিকিৎসকের একটি দল। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও থাকছেন সেখানে। অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন মাস্ক, স্ট্রেচার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, রক্তচাপ স্বাভাবিক করার যন্ত্রের মতো, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চিনিয়ালিসাঘরের একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারেও শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে।
গত ১২ নভেম্বর ভোরে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে ধস নেমেছিল। ভিতরে আটকে পড়েন ৪১ জন শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা বার বার ব্যর্থ হয়েছে। সুড়ঙ্গের যে অংশে শ্রমিকেরা আটকে আছেন, কিছুতেই সেখানে পৌঁছতে পারছিলেন না উদ্ধারকারীরা। গত ১১ দিন ধরে বদ্ধ সুড়ঙ্গেই আটকে আছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের মধ্যে বাংলারও তিনজন রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে আনতে মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।