
শেষ আপডেট: 28 November 2023 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ দিনের অপেক্ষার অবসান ! শেষ হয়েছে খনন কাজ। আর মাত্র কিছুক্ষণ পরেই উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে বাইরে বের করে আনা হবে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিককে। ইতিমধ্যে স্ট্রেচার নিয়ে ভেতরে ঢুকেছেন উদ্ধারকারীরা। তৈরি অ্যাম্বুলেন্স সহ চিকিৎসক দলও।
গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সুড়ঙ্গের বাইরে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিজনেরা। খনন কাজ শেষ হতেই আনন্দে দু’চোখ উপচে জল গড়াতে দেখা গিয়েছে তাঁদের অনেকের। দু’হাত তুলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁদেরই অন্যতম উত্তরপ্রদেশের শ্রমিক মনজিতের বাবা।
লখিমপুর খেরির এই কৃষি শ্রমিক সোমবার সন্ধেয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, “এর আগে মুম্বইয়ের একটি দুর্ঘটনায় এক ছেলে মারা গিয়েছে। ফের একই ঘটনা ঘটুক, চাই না। গত ১৩ দিন ধরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে চলেছি। বলেছি- ছেলেকে সুড়ঙ্গ থেকে ফিরিয়ে দাও, প্রতিজ্ঞা করছি আর কোনওদিন দুর্গম এলাকায় কাজে পাঠাব না।”
এদিনও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন তিনি। বলেছেন, “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরুক। বেঁচে থাকলে অনেক কাজ পাবে। এমন এলাকায় ছেলেকে আর পাঠাব না।”
ছেলের আটকে থাকার খবর পেয়ে ঘটনার একদিন পর উত্তরপ্রদেশ থেকে উত্তরকাশীর সিল্কিইয়ারা সুড়ঙ্গে পৌঁছেছিলেন মনজিতের বাবা। এজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীর কাছে স্ত্রীর সোনা বন্ধক রাখতে হয়েছে তাঁকে। তার বিনিময়ে পেয়েছেন ৯ হাজার টাকা। ওই টাকা নিয়েই তিনি চলে এসেছেন ঘটনাস্থলে। বলছিলেন, “গত দু’সপ্তাহ ধরে দিন রাত এক করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম। দেরি হলেও ঈশ্বর কথা শুনেছেন।”
মনজিতের বাবার মতো আটকে থাকা শ্রমিকদের একাধিক পরিজন সেই ১২ নভেম্বরের পর থেকেই সুড়ঙ্গের বাইরে অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের একটাই প্রার্থনা, সব কিছু ভালভাবে মিটে যাক। উদ্ধারকারীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিএমএ)-র সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল সায়েদ হাসনায়েন বলছেন, প্রধান বাধা আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি। খননের কাজ শেষ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আটকে থাকা ৪১ দন শ্রমিককে বের করে আনা হবে। আটকে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তিন শ্রমিকও।