
শেষ আপডেট: 17 December 2023 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৭ দিন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকার পর অবশেষে একে একে বাইরে আসছেন শ্রমিকরা। প্রথমেই ৫ জনকে বাইরে আনা হয়। তারপর ধাপে ধাপে বাকি শ্রমিকদেরও বের করে আনার প্রক্রিয়া চলবে। গোটা প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে আরও ঘণ্টা দুই।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, সুড়ঙ্গের মধ্যে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিকই সুস্থ আছেন। তাঁদের একে একে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে অস্থায়ী হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা শ্রমিকদের চিকিৎসা শুরু করবেন। মজুত আছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন।
চারধামে যাতায়াতের জন্য উপযোগী রাস্তা তৈরি করার ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিল উত্তরাখণ্ড সরকার। আর সেই প্রকল্পের অধীনেই চলছিল সিল্কয়ারা টানেলের কাজ। এই কাজ চলাকালীন গত ১২ নভেম্বর ঘটে বিপত্তি। টানেলের মধ্যে আচমকা ধস নামে। সেইসময় টানেলের মধ্যে কাজ করছিলেন ৪১ জন শ্রমিক। ধস নামার পর আটকে পড়েন তাঁরা।
তারপর থেকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিস্কের নেতৃত্বে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। মার্কিন যন্ত্র অগার মেশিনের মাধ্যমে সুড়ঙ্গের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করে। কিন্তু গত শুক্রবার আচমকাই সুড়ঙ্গের মধ্যে ধাতব জালে আটকে বিকল হয়ে যায় মার্কিন যন্ত্র। ৩০ ঘণ্টার ওপর বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধার কাজ।
১৭ দিন পর পৃথিবীর আলো! অবশেষে উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গ থেকে বের করে আনা হল শ্রমিকদের#UttarkashiRescue #UttarakhandTunnelRescue #TheWallbangla pic.twitter.com/vqpn4RWuqN
— The Wall (@TheWallTweets) November 28, 2023
শুরু হয় বিকল্প পথের খোঁজ। মার্কিন যন্ত্র অগার মেশিন যখন অকেজো হয়ে যায়, তখন দু'টি বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবা হয়েছিল। এক, মেশিনের সাহায্যে উলম্বভাবে সুড়ঙ্গ খোঁড়া আর দুই, অবশিষ্ট ধ্বংসস্তূপের অংশ শাবল, কোদাল, গাঁইতি দিয়ে খুঁড়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো। একসঙ্গেই দু'টি পদ্ধতিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। এদিন দুপুত্রের দিকেই র্যাট হোল মাইনিং পদ্ধতিতে ম্যানুয়াল ড্রিলিং করেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ সফল হয়।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হতেই তাতে পাইপলাইন ঢোকানো হয়। সেই পাইপলাইনের মধ্যে দিয়ে একে একে শ্রমিকদের বের করে আনার কাজ চলছে। সুড়ঙ্গের সামনে দাঁড় করানো একাধিক অ্যাম্বুলেন্স। শ্রমিকদের বের করে আনার পরই সেই অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সুড়ঙ্গের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের লোক যেমন আছেন, তেমন আছেন স্থানীয়রাও। প্রথম টানেল থেকে শ্রমিকদেরকে বের করে আনা হয় তখন অনেকের চোখেই জল এসে যায়। সুড়ঙ্গের বাইরে আছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। গোটা প্রক্রিয়া তদারক করছেন তিনি।