
শেষ আপডেট: 18 November 2023 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেটে গিয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। এখনও উত্তরকাশীর নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা যায়নি। জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। কীভাবে শ্রমিকদের উদ্ধার করা যায় তা নিয়ে নানান পরিকল্পনা হলেও এখনও আশার আলো দেখতে পাননি উদ্ধারকারীরা। শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত জোগান দেওয়া হচ্ছে জল, খাবার ও অক্সজেন। কিন্তু তাও যতই সময় এগোচ্ছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ। বাড়ির লোক আটকে রয়েছেন জানতে পেরে যে চোখের পাতা এক করতে পারছেন না অসংখ্য পরিবার।
৪০ জনের সেই দলে রয়েছেন উত্তরাখণ্ডের চম্পাবত জেলার ছানি গোথ গ্রামের বাসিন্দা পুষ্কর। বছর পঁচিশের ওই যুবকের দাদা বিক্রমও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত। বাড়িতে রয়েছেন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মা। সুড়ঙ্গ ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে বাবা-মাকে কিছু না জানিয়েই উত্তরকাশীতে ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন বিক্রম। দিনরাত ভাই কেমন আছে তা জানতেই উদ্বেগে দিন কাটছে তাঁর।
এক সংবাদমাধ্যমকে বিক্রম জানিয়েছেন, ঘটনার ছয় দিনের মাথায় অর্থাৎ শুক্রবার ভাইয়ের সঙ্গে কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেন। বিক্রম বলেন, "ওর গলা শুনে মনে হচ্ছিল খুব ক্লান্ত, আতঙ্কিত হয়ে আছে। কিন্তু আমাকে বার বার আশ্বাস দেওয়ার জন্য বলেছে যে চিন্তার কোনও কারণ নেই। ভাই একা নয়, ওর সঙ্গে আরও অনেকে আছে।”
কয়েক মুহূর্তের কথার মধ্যেই বিক্রমও ভাইকে চিন্তা না করার কথা বলেন। আর দাদার গলা শুনেই পুস্কর বলে ওঠেন, “আমি যে সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছি মাকে বলিস না। চিন্তা করবে।” কিন্তু পুষ্করের সুড়ঙ্গে আটকে থাকার কথা যে বাবা-মাযের থেকে গোপন রাখা যায়নি। গ্রামবাসীদের অনেকে বিষয়টি জানতেই বাবা-মায়ের কানেও ছেলের খবর পৌঁছে গিয়েছে বলে জানান বিক্রম।
আটকে পড়া শ্রমিকদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ওয়াকি-টকির মাধ্যমে উদ্ধারকারীরা যোগাযোগ করছেন। টানেলের কাছে মোতায়েন রাখা হয়েছে একটি মেডিকেল টিম। তবুও শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার না করা পর্যন্ত চিন্তা কমছে না।