
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2025 12:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদ্রীনাথের কাছে তুষারধসে (Uttarakhand Avalanche) ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বরফের তলা থেকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসা চলাকালীন শনিবার তাঁদের মৃত্যু হয়। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ৪৭ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। তাঁদেরই একজন একটু স্বাভাবিক হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন শুক্রবারের সেই ভয়াবহ সকালের অভিজ্ঞাতার কথা। ঠিক কী হয়েছিল ওইদিন? দৈত্যাকার বরফের চাঁই নামতে দেখেও কেন পালাতে পারলেন না তাঁরা?
গোপাল জোশি (Uttarakhand Avalanche Survivor)। বাড়ি চামোলি জেলার নারায়ণবাগোর এলাকায়। মানাতে এক্সিলেটার মেশিন চালানোর কাজ করছিলেন বেশ কয়েকমাস ধরে। ওই এলাকায় বিআরও ক্যাম্পে নিযুক্ত ছিলেন, যার কনট্র্যাক্টর বিজয় ইনফ্রা কনস্ট্রাকশন। মানাতে কাজ চলছিল।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও নাকি শান্ত মানায় সূর্যোদয়ের পর তাঁদের ঘুম ভাঙে। চারিদিকে বরফ। বেশ কিছুদিন ধরেই আবহাওয়া মোটের ওপর ভাল ছিল না। সেই প্রতিকূল আবহাওয়া খানিকটা সয়ে গিয়েছিল কম-বেশি সকলেরই। আর স্থানীয় লোক হওয়ায় তাঁদের কাছে তুষারপাত খুব একটা নতুন বা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ফলে কন্টেনার থেকে বেড়িয়ে পড়েন। বেরনোর সময় বিকট আওয়াজ শুনতে পান। ওপরের দিকে তাকাতেই দেখেন দৈত্যাকার কিছু একটা ধেয়ে আসছে তাদের দিকে। স্বভাবতই চমকে যান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বুঝে যান পালাতে হবে এলাকা থেকে।
তিনি সহকর্মীদের হাঁক দেন। পালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কন্টেনার থেকে বেরিয়ে পালানোর আগেই সব শেষ। ওই দৈত্যাকার বরফের চাঁইতে চাপা পড়ে যান সকলে। সেদিন কেন বুঝতে পেরেও পালাতে পারলেন না শ্রমিকরা?
গোপাল জোশী জানান, কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া খারাপ থাকায় আগে থেকেই অনেকটা মোটা বরফের আস্তরণ ছিল এলাকায়। তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেন কিন্তু বরফের মধ্যে দিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি।
এই ঘটনা সকাল ৬টা নাগাদ হয়। প্রায় দু'ঘণ্টা পর আইটিবিপির জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন বলে জানান জোশী। তাঁকে ও আরও ২১ জনকে মানা থেকে জ্যোতির্মঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সেনা হাসপাতালে সকলের চিকিৎসা চলছে। তাঁর মাথায় ও বুকে আঘাত লাগে। এই ঘটনা চারজনের মৃত্যু হয়েছে শনিবার। গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে ঋষিকেষের এইমসে ভর্তি করা হয়েছে।
তুষারধসে অসুস্থ আরেক শ্রমিক বিপিন কুমার জানান, তিনি বরফের নীচে ছিলেন প্রায় ১৫ মিনিট ধরে। তুষারধস থামার পরই তা থেকে বেরোতে পেরেছিলেন।
আরেক শ্রমিক মনোজ ভাণ্ডারী জানান, তিনি চিৎকার করে সকলকে পার্ক করা লোডার মেশিনের পিছনে লুকিয়ে পড়তে বলেছিলেন। ওই লোডার মেশিনের পিছনে লুকিয়েই তিনি বেঁচে যান। বাকি শ্রমিকরা জানান, বরফ এতোটাই বেশি ছিল যে খুশ বেশিদূর যাওয়া সম্ভব হয়নি।
রিপোর্ট বলছে, ওইদিন মানাতে ৫৪ জন শ্রমিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কারও বাড়ি উত্তরপ্রদেশে, কারও বিহারে, কারও জম্মু-কাশ্মীরে তো কারও পাঞ্জাবে। বাকি হিমাচল ও উত্তরাখণ্ডের।