
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 March 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদ্রীনাথের কাছে তুষারধসে চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে শনিবার। বরফের তলা থেকে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসা চলাকালীন তাঁদের মৃত্যু হয়। কিন্তু এখনও বরফের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন চার জন।
শুক্রবারের তুষারধসে মোট ৫৪ জন শ্রমিকের চাপা পড়ার খবর মেলে। সে থেকে এপর্যন্ত ৫০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা গেছে। মারাত্মক তুষারপাত, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসের প্রতিকূলতার মধ্যে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে সেনাবাহিনী। রবিবার সকালেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পদে পদে বাধা পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
প্রবল তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে শুক্রবার রাতের পর উদ্ধারকাজ কিছুটা স্থগিত রাখা হয়, তবে রবিবার অর্থাৎ আজ সকালে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় পুনরায় কাজ শুরু হয় জোরকদমে। ভারতীয় সেনা, আইটিবিপি (ITBP), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), BRO এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র প্রায় ২০০-রও বেশি কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা গ্রামের কাছে কাজ চলছিল। দায়িত্বে ছিল বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO)। তাদেরই একটি ক্যাম্প সম্পূর্ণভাবে বরফের নীচে চাপা পড়ে যায়। যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। মৃতরা হলেন মহিন্দ্র পাল ও জিতেন্দ্র সিং (হিমাচল প্রদেশ), মঞ্জিত যাদব (উত্তরপ্রদেশ) এবং অলোক যাদব (উত্তরাখণ্ড)। নিখোঁজ রয়েছেন হরমেশ চাঁদ (হিমাচলপ্রদেশ), অশোক (উত্তরপ্রদেশ), অনিল কুমার ও অরবিন্দ সিং (উত্তরাখণ্ড)।
প্রবল তুষারপাত ও বৃষ্টির কারণে শুক্রবার রাতের পর উদ্ধারকাজ কিছুটা স্থগিত রাখা হয়, তবে রবিবার অর্থাৎ আজ সকালে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় পুনরায় কাজ শুরু হয় জোরকদমে। ভারতীয় সেনা, আইটিবিপি (ITBP), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), BRO এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-র প্রায় ২০০-রও বেশি কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি—ভিক্টিম লোকেটিং ক্যামেরা (VLC), থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, দিল্লি থেকে আনা হয়েছে গ্রাউন্ড পেনিট্রেশন ব়্যাডার এবং প্রশিক্ষিত অ্যাভালাঞ্চ রেসকিউ ডগ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আজ ড্রোন ও ইউএভি (Unmanned Aerial Vehicle)-ও ব্যবহার করা হবে।
শনিবার সকালে পরিস্থিতি, উদ্ধারকাজের তৎপরতা ও আবহাওয়া সংক্রান্ত খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এক্স বার্তায় জানান, শ্রমিকদের উদ্ধারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করলেও দ্রুত তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার পরামর্শ দেন।
এদিকে, হৃষিকেশ-বদ্রীনাথ জাতীয় সড়ক কর্ণপ্রয়াগের কাছে তুষারপাতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দুধারে অসংখ্য গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে চামোলির মানা গ্রামে তুষারধসের কারণে এই জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে রয়েছে। বদ্রীনাথ-জ্যোতির্মঠ জাতীয় সড়কের অন্তত ১৫-২০টি স্থানও অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে।
একই রকম দুর্যোগের পরিস্থিতি চলছে পার্শ্ববর্তী হিমাচল প্রদেশেও। ভারী বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতে রাজ্যের অধিকাংশ জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাঁচটি জাতীয় সড়ক সহ প্রায় ৫৮৩-র বেশি সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ। ২২৬৩টি বিদ্যুৎ সংবহনকারী ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় পানীয় জলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ অংশে জনজীবন কার্যত ব্যাহত। বিভিন্ন জায়গায় হড়পা বান, ভূমিধস এবং তুষারপাত হয়ে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু রাজ্যের মানুষকে নদীর ধার থেকে সরে যেতে বলেছেন। কুলু-সহ উপরের দিকে পাহাড়ি অঞ্চলে এখনও বৃষ্টি ও তুষারপাত হয়ে চলেছে।